পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি সংলগ্ন বেশ অনেকটা এলাকা অধিকারী গড় নামেই পরিচিত। শিশির অধিকারী, শুভেন্দু অধিকারীদের হাত ধরে মেদিনীপুরে ভোটের ভালো ফলের স্বপ্ন দেখেছিল বিজেপি। তা তো হয়ইনি, এমনকী অধিকারীদের বাস্তুভিটে শান্তিকুঞ্জ সংলগ্ন বুথেই পিছিয়ে গিয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের বেতাজ বাদশা হিসাবেই পরিচিত কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তাঁর প্রভাবকে কাজে লাগিয়েই মুর্শিদাবাদে ভালো ফল করার আশা দেখেছিল সংযুক্ত মোর্চা। কিন্তু, মুর্শিদাবাদে তো নয়ই, সারা রাজ্যেই কোনও আসন পায়নি কংগ্রেস। অধিকারীদের মতোই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নিজের বুথেই পিছিয়ে ছিল কংগ্রেস।

এবার নির্বাচনের আগে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের ভোটার হয়েছিলেন। তবে শান্তিকুঞ্জের বাকিরা ভোট দিয়েছিলেন বাড়ির কাছের প্রভাতকুমার কলেজে। কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টও হয়েছিলেন শুভেন্দুর ছোটভাই সৌমেন্দু অধিকারী। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই ভোটকেন্দ্রে (৮৩ নম্বর বুথে) বিজেপির থেকে তৃণমূল ৫৪ ভোটে এগিয়ে ছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী জ্যোতির্ময় করকে পরাজিত করেছেন বিজেপি প্রার্থী অরূপ কুমার দাস। শুভেন্দু নিজেও নন্দীগ্রামে কোনওক্রমে জিতেছেন।  তবে দুই মেদিনীপূরের হতাশাজনক ফল হয়েছে বিজেপির। এর পাশাপাশি নিজের বাড়ি সংলগ্ন বুথেও পিছিয়ে থাকাকে অধিকারী গড়ে ফাটল হিসাবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।

অন্যদিকে, আরও কারাপ অবস্থা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর। অধীর নিজে যে বুথে ভোট দিয়েছেন, সেই কাশিমবাজার পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২২ নম্বর বুথে, কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ১৪৭টি ভোট। বিজেপি পেয়েছে ৪৫৭টি। পাশের বুথের ২১ নম্বরেও কংগ্রেসের অবস্থা করুন। আশপাশের প্রায় প্রতিটি বুথেই কংগ্রেসকে টেক্কা দিয়েছে বিজেপি বা তৃণমূল। বহরমপুর বিধানসভা এলাকার কোনও বুথেই কংগ্রেসের ভোট আড়াইশো পার করেনি।

আরও পড়ুন - মুকুল রায়কে নিয়ে জল্পনার অবসান - এরপর কোন পথে, নিজেই জানালেন সেই কথা

আরও পড়ুন - 'দলের ক্ষতি করেননি' - তৃণমূলে টিকেই গেলেন দিব্যেন্দু অধিকারী, বহিষ্কৃত প্রাক্তন বিধায়ক

আরও পড়ুন - দিল্লি-গুজরাতে আতঙ্ক, করোনার সঙ্গে বাড়ছে আরও এক ভয়ঙ্কর সংক্রমণ - ব্ল্যাক ফাঙ্গাল ইনফেকশন

কয়েকটি বুথে তো তাদের প্রাপ্ত ভোট একেবারে আঙুলের কড়ে গোনা যায়। যেমন ২৪৪ নম্বর বুথে কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ৫টি ভোট। ২৭২ নম্বর বুথে ১২টি, ২৯০ নম্বর বুথে ১৮টি, ২২৪ নম্বর বুথে ১৪টি, ১৭৬নম্বর বুথে ২১টি। ২৪৭ নম্বর বুথে তাদের ভোটপ্রাপ্তি সর্বোচ্চ, ২৪৯টি। খোদ বহরমপুরে কংগ্রেসের এমন হাল হবে, কেউ দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি। দীর্ঘ সময় মুর্শিদাবাদে অধীরের দাপটে  তৃণমূল  মাথা তুলতে পারেনি। কিন্তু, এবার আর বহরমপুরের 'দাদা'র ক্যারিশমা কাজ করেনি। ফলে বহরমপুর শহরের রাজনৈতিক মহলে এখন আলোচনা, আগামী লোকসভা নির্বাচনে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বহরমপুর কেন্দ্র থেকে নিজে জয়ী হতে পারবেন তো?