নজির বিহীন সিদ্ধান্ত। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই প্রথমবার বিধধানসভার স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠানে থাকবেন না প্রধান বিরোধী দলের একজন বিধায়কও। শুক্রবার বঙ্গ বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যে নির্বাচন পরবর্তী হিংসা নিয়ন্ত্রণ না করা পর্যন্ত বিধানসভার অধিবেশনে বিজেপির নবনির্বাচিত বিধানসভা সদস্যরা সভায় অংশ নেবেন না। শনিবারই, বিধানসভার স্পিকার নির্বাচন। সেই অনুষ্ঠানে থাকবেন না বিজেপি বিধায়করা।   

দিলীপ ঘোষ আরও বলেছেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত বিজেপি বিধায়করা সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষা না পান, ততক্ষণ তাঁরা বিধানসভায় আসবেন না। বিজেপি বিধায়করা কিংবা তাঁদের কর্মীরা যখন রাস্তাঘাটে নির্ভয়ে চলাচল করতে সক্ষম হবেন, তখনই বিধায়নসভায় অংশ নেবেন বিজেপি বিধায়করা। রাজ্য বিজেপির সবাপতি আরও জানান, এই হিংসা বন্ধ করতে এবং হিংসায় ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নেবে বলেই আশা করছেন তাঁরা।

আট দফার নির্বাচনে যে ভয়ঙ্কর হিংসার ছবি দেখা গিয়েছিল, ২ মে ফলাফল ঘোষণার পরও তার বিশেষ পরিবর্তন ঘটেনি। বৃহস্পতিবার, খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই রাজ্যে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন এরমধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি - দুই দলেরই ১৬ জন করে কর্মী এবং আইএসএফ-এর একজন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। এই নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিপূরণ হিসাবে সরকারের পক্ষ থেকে দুই লক্ষ করে টাকা দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বাংলায় নির্বাচন পরবর্তী হিংসা নিয়ে উদ্বীগ্ন কেন্দ্রীয় সরকারও। এই হিংসার ঘটনাগুলির কারণ অনুসন্ধানে এদিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে চার সদস্যের 'ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম'কে পাঠানো হয়েছে রাজ্যে। এদিন তারা রাজ্যের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং রাজ্যপাল জগদীপ ধনখরের সঙ্গে দেখা করে নির্বাচন পরবর্তী হিংসার বিষয়ে খবরাখবর নেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে রাজ্যপালকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিশেষ করে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে যে ব্যাপক হিংসার ঘটনা ঘটে চলেছে, সেই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।