বিজেপি নেতা রকেশ সিং-এর গ্রেফতারি নিয়ে সরব হলের দিলীপ ঘোষ। বুধবার সকালে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ শহরে চায়ে পে চর্চা, প্রাতঃভ্রমণ, বিজেপির শিবিরে যোগদান সহ বেশ কয়েকটি কর্মসূচি ছিল তাঁর। সেই সময়ই বিজেপির রাজ্যসভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন রাজ্যে প্রতিহিংসার রাজনীতি হচ্ছে। আর সেটা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে। তিনি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পুলিশ মন্ত্রী। আর সেই কারণে তাঁর ইচ্ছে ও নির্দেশেই গ্রেফতার করা হয়েছে বিজেপি নেতা রাকেশ সিংকে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেরা করার জন্যই গিয়েছিল সিবিআই। তারই পরিপ্রেক্ষিতে রাকেশ সিংকে রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেব দিলীপ ঘোষ। 


এদিন দিলীপ ঘোষ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী ইস্যুতে সরাসরি প্রশ্ন করেন, কারও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টি হিসেব বহির্ভূত কোটি কোটি টাকা থাকলেও সিবিআই জেরা করতে যেতে পারবে না? অথচ বাড়িতে পুলিশ আসার কারণ জানতে চাইলেই গ্রেফতার করা হবে পরিবারের সদস্যদের। দিলীপ ঘোষ বলেন কেন রাকেশ সিং-এর বাড়িতে পুলিশ গিয়েছিল, তা জানতে চেয়েছিল তার ছেলেরা। আর তারপরই রাকেশ সিং -এর ছোট ছোট ছেলেদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, দলীয় কোনও সদস্য যদি নিয়ম ভেঙে কোনও কাজ করে তাহলে তার পাশে থাকবে না দল। কিন্তু অন্যায়ভাবে প্রতিহিংসার বশে তাদের দলের কাউকে হেনস্থা করলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো হবে। কথা প্রসঙ্গে এদিন দিলীপ ঘোষ, রাজীব কুমারের কথাও তুলে আনেন। তিনি বলেন একটা সময় মুখ্যমন্ত্রী পাশে দাঁড়িয়েছিলেন রাজীব কুমারের। তাঁর বাড়িয়ে যখন সিবিআই আধিকারিকরা গিয়েছিল তখন তিনি প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন। দিলীপ ঘোষের কথায় ভাইপোর ক্ষেত্রেও একই জিনিস হয়েছে। তিনি বলেন সিবিআই আধিকারিকরা যাওয়ার আগে ভাইপোর বাড়িতে গিয়ে জিনিসপত্র কোথায় লুকাবে বা কিভাবে তাদের জবাব দেবে, তা শিখিয়ে দিয়ে আসছেন।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ কয়লাকাণ্ডে সিবিআই আধিকারিকরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীকে জেরা করার জন্য তাঁদের বাড়িতে গিয়েছিল। প্রায় দেড়ঘণ্টা ধরে রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেরা করা হয়। তারপর রাতের দিকে কলকাতার বাইরে থেকে কোকেনকাণ্ডে আটক করা হয় রাকেশ সিংকে। আর তাঁর বাড়িতে থেকে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর দুই ছেলেকে। এই ঘটনায় রীতিমত অস্বস্তিতে পড়ে বিজেপি। গতকাল দিনভরের ঘটনা পরিপ্রেক্ষিতে বলা যেতে পারে এই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে কয়লাকাণ্ডের পাশাপাশি কোকেনকাণ্ডও যথেষ্ট গুরুপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠবে।