নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। রাজ্যে চালু হয়ে গিয়েছে আদর্শ আচরণ বিধি। বিভিন্ন জনসভা থেকে জোর টক্কর চলছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বর্তমান প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। অন্যদিকে, ক্রমে উন্মাদনা বাড়ছে বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ'এর জোট নিয়েও। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত বাংলার ক্ষমতা পাবে কারা? ফের কি পরিবর্তনের সাক্ষী থাকবে বাংলা? নাকি প্রথমবারের মতো বাংলাবাসী রাজ্যের ভার তুলে দেবে গেরুয়া শিবিরের ঘাড়ে? দেখে নেওয়া যাক, নির্বাচনের এক মাস আগে করা সি-ভোটার সংস্থার সমীক্ষার ফলাফল -

গত এক বছর ধরে মানুষ লড়াই করছে করোনা মহামারির সঙ্গে। সেইসঙ্গে দেশে বর্তমানে জ্বলজ্বলে সমস্যা হিসাবে আলোচনায় রয়েছে কৃষক বিক্ষোভ, সাম্প্রদায়িক অশান্তি, দেশের অর্থনীতির মতো বিষয়। তবে সবকিছু ছাপিয়ে বাংলার মানুষ জানিয়েছেন দেশে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল কর্মসংস্থানের অভাব অর্থাৎ বেকারত্ব। সি-ভোটারের সমীক্ষায় অংশ নেওয়া মানুষদের ২৩ শতাংশ জানিয়েছেন বেকারত্বকেই তাঁরা সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে মনে করছেন। ১৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা দুর্নীতি। ১১ শতাংশ মানুষ বলেছেন, দারিদ্র, করোনা মহামারি বলেছেন ৮ শতাংশ, মূল্যবৃদ্ধি ৪ শতাংশ, কৃষক-সমস্যার কথা বলেছেন ৩ শতাংশ এবং সাম্প্রদায়িক অশান্তির কথা বলেছেন ১ শতাংশ।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে জনপ্রিয়তার নিরিখে, ১০ বছর শাসনের পরও শীর্ষেই রয়েছেন বাংলার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমীক্ষা অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতাকে দেখতে চেয়েছেন ৫৫ শতাংশ মানুষ। এই প্রশ্নে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। ২৫ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তাঁকে পছন্দ। মুকুল রায়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে পছন্দ বলেছেন ৯ শতাংশ, সিপিএম-এর সুজন চক্রবর্তীর কথা বলেছেন ৩ শতাংশ, অধীর চৌধুরীর কথা বলেছেন ২ শতাংশ। অন্য কাউকে চেয়েছেন সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬ শতাংশ।
   
এবার আসা যাক, রাজ্যের ক্ষমতা দখলের প্রশ্নে। কারা কটি আসন পেতে পারে, ভোট প্রাপ্তির শতাংশ হিসাবটাই বা কী হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার মোট আসন সংখ্য়া ২৯৪। আর সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। সি ভোটারের দ্বিতীয় দফার জনমত সমীক্ষার ফল বলছে, এখনই ভোট হলে ক্ষমতায় ফিরবে তৃণমূল কংগ্রেসই।

সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মত অনুযায়ী তৃণমূল পেতে  পারে ১৪৮ থেকে ১৬৪টি আসন। অন্যদিকে তাদের তাড়া করা বিজেপি পেতে পারে ৯২ থেকে ১০৮টি আসন। বাম-কংগ্রেস জোটের ঝুলিতে যেতে পারে ৩১ থেকে ৩৯টি আসন। আর অন্যান্যদের ঘরে যেতে পারে ১ থেকে ৫টি আসন। অন্যদিকে, সি-ভোটারের জনমত সমীক্ষা বলছে, ভোট প্রাপ্তির শতাংশ হিসাবে তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ৪৩ শতাংশ ভোট। সামান্য পিছিয়ে বিজেপি, তারা পেতে পারে ৩৮ শতাংশ ভোট। আর বাম-কংগ্রেস জোট পেতে পারে ১৩ শতাংশ, অন্যান্যরা ৬ শতাংশ।