বিধানসভা ভোটের আগে গতি বেড়েছে কয়লা কেলেঙ্কারি কাণ্ডের। মঙ্গলবারই সিবিআই-এর তদন্তকারীরা হানা দিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বাড়িতে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তাঁর স্ত্রীকে। এই কাণ্ডের তদন্তে বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদেরও নাম থাকতে পারে বলে জানালেন জেলার তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তবে তাঁর দাবি 'ওসব করে তৃণমূলকে ভড়কানো যাবে না'।

মঙ্গলবার বীরভূমের কোটাসুরে ময়ূরেশ্বর বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের মহিলা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে একটি সভা করেন তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বোলপুর লোকসভার সাংসদ অসিত মাল, বীরভূম জেলা পরিষদের মেন্টর অভিজিৎ সিং, দলের জেলা সহ সভাপতি সৈয়দ সিরাজ জিম্মি, সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব ভট্টাচার্য প্রমুখ।

সভা শেষে কয়লা কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীকে সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদকে সরাসরি 'চক্রান্ত' বলে উড়িয়ে দিলেন অনুব্রত মণ্ডল। এই কেলেঙ্কারির তদন্তে বীরভূমের তৃণমূল নেতাদের নামও থাকতে পারে, বলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানিয়ে দেন তিনি। তাঁর মতে 'নাম থাকতেই পারে। নাম থাকলে অসুবিধার কী আছে। ওসব নকল। আসল তো নয়। ওসব ভয় তৃণমূলকে দেখিয়ে লাভ হবে না। জেল খাটিয়ে, ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না। তৃণমূলের আন্দোলনকে দমানো যাবে না। মনে রাখবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চুলের মুঠি ধরে রাইটার্স থেকে বের করা হয়েছিল। হাজরা মোড়ে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাতেও মমতাকে দমানো যায়নি। তৃণমূল মচকাবে তবু ভাংবে না'।

এখনও, প্রার্থী তালিকা তৈরি হয়নি তৃণমূলের। তবে, এদিনের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ময়ূরেশ্বর বিধানসভায় কার্যত ফের অভিজিৎ রায়-এর নামই প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করে দিয়েছেন অনুব্রত। সভামঞ্চ থেকে তৃণমূল জেলা সভাপতি বলেন, 'অভিজিৎ আপনাদের কাছের ছেলে। আপনাদের কাছে যাবে। আপনারা ওকে ফেরাবেন না। এই ভোট অভিজিতের ভোট নয়। এই ভোট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোট'। পরে যদিও এই প্রসঙ্গে অনুব্রত বলেন, অভিজিৎ বর্তমানে বিধায়ক বলেই তিনি তাঁর নাম করেছেন। তবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই।