প্রবীর মাহাতো খুনে অভিযুক্ত ছত্রধর মাহাতোর শুক্রবার হাইকোর্টে শুনানি। এদিকে ইতিমধ্য়েই দশ বছর জেলে কাটানোর পর এখন  কেন এনআইএ এই কেসের তদন্তে নামল, এতদিন কী ঘুমিয়ে ছিল তাহলে,  তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঠগোড়য় দাঁড় করালেন ছত্রধর।  এশিয়ানেট নিউজ বাংলার সিনিয়র এডিটর দেবজ্য়োতি চক্রবর্তী,  ছত্রধর মাহাতোর এই  বিশেষ সাক্ষাতকার নিতেই ভোটের আগে বেরিয়ে এল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

 

 আপনার কি মনে হয় এটা ভোটের আগে উদ্দেশ্য প্রণোদিত কোনও পরিকল্পনা?

সাংবাদিকের সওয়াল- জবাবে তিনি বলেন,  'ভোটের আগে জোর করে যাতে চাপ সৃষ্টি করা যায় সেই কারণেই কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ, মেনে নিলেন ছত্রধর মাহাতো। আরও বললেন, আমাকে তো আইনি লড়াইয়ের পথেই এগোতে হবে। তবে এটা সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে দানবীয় আইন। অপরদিকে, শুক্রবার হাইকোর্ট যদি আপনাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়, আর আপনি যদি জঙ্গলমহলের একটা আসন থেকে প্রার্থী হন, তখন কি জেল থেকেই আপনি প্রচার চালাবেন। প্রশ্নের উত্তরে ছত্রধর জানালেন, এখনই এতদূর ভাবতে তিনি রাজি নন। কারণ তিনি সব রকম সহযোগীতা করেছেন। এভাবে তাঁকে গ্রেফতার বা হেফজতে রাখার বিষয় হতে পারে না।'

 

 

'এনআইএ -সিবিআই নিরপেক্ষ নয়'

তিনি বলেন, 'এনআইএ -সিবিআই নিরপেক্ষ নয়। কেন্দ্রীয় সরকারে যে দল থাকবে, তাঁদের কথাই শুনে চলে এই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। অভিযোগ আনলেন ছত্রধর। ফারুক আবদুল্লার পক্ষে একটা রায় এসেছে যে, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধীতা করা মানেই দেশদ্রোহিতা, এটা কখনই নয়। সুপ্রিম কোর্ট কিন্তু মোদীর জমানায় কেন্দ্রীয় সরকারকে দুবার দোষারপ করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে এনআইএ -সিবিআই-এদের নিরপেক্ষ থাকা উচিত, রাজনৈতিক স্বার্থে ব্য়বহার হওয়া উচিত নয়। তিনি আরও বলেন,' পশ্চিমবঙ্গে এমন কয়েক কোটি মামলা আছে। তবে আমার এই মামলার ক্ষেত্রেই কেন এগিয়ে এল এনআইএ, এখানেই তো নিরপেক্ষতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।'

 

 

কোন মামলায় আপনায় বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে NIA ?

 ছত্রধর মাহাতো জানালেন, 'আমার বাড়ি থেকে ২০ কিমি দূরে, বহরমপুরে প্রবীর মাহাতো নামের এক ব্যক্তি খুন হয়েছিলেন। সেই খুনের মামলায় আমাকে ৫ নম্বর আসামী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এফআইআর ছাড়াই কাউকে গ্রেফতার করে, তার বলা নামের ভিত্তিতে আমাকে গ্রেফতার করা হয়। এই মামলায় যারা সাক্ষী দিচ্ছেন তাঁদের কাউকেই আমি চিনি না। যিনি খুন হয়েছেন তাঁকে এবং তাঁর বাড়িও আমি চিনি না। পশ্চিমবঙ্গের সকলেই আমাকে চেনে, কিন্তু আমি তো সকলে চিনি না। এটা পুরোটাই ওদের সাজানো কেস। এবং সেখানে আমাকে জড়ানো হয়েছে। দশটা বছর আমি বিচারাধীন অবস্থায় আমি জীবন কাটিয়েছি। '

 

 


' এই খুনের কেসটি যখন ঘটে, সেসময় NIA-র জন্মও হয়নি'


' এই খুনের কেসটি যখন ঘটে, সেসময় এনআইএ-র জন্মও হয়নি। কিন্তু আমি যখন ১০ বছর কাস্টডিতে ছিলাম, এনআইএ কেন তখন আগে তদন্ত করল না, প্রশ্ন তুললেন এবার ছত্রধর নিজেই।  উল্লেখ্য,  মুম্বাই বিস্ফোরণ কাণ্ডের পর ২০০৯ সালে এনআই-এর জন্ম হয়। তবে তারপরেও কেন সেইসময় প্রবীর মাহাতো খুনের কেসে তদন্তে নামল না এই তদন্তকারী সংস্থা, এই দশবছর কেন ঘুমাচ্ছিল এনআইএ, আবারও প্রশ্ন তোলেন ছত্রধর।  আমি জেল থেকে বেরিয়ে প্রথমে কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিইনি। আর তখন কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাও এই কেসের তদন্তে নামেনি। যেই আমি এরপর তৃণমূলে যোগদান করলাম, তারপরেই তদন্তে নামতে হল এনআইএ-কে, কটাক্ষ করেন তিনি। এখনও পর্যন্ত তিন বার ছত্রধর মাহাতোকে তলব করেছে এনআইএ। শুধুমাত্র লকডাউনে কলকাতায় ওদের অফিসে যাওয়া ছাড়া প্রত্যেকবার আমি উপস্থিত থেকেছি ওদের কাছে।'

 

 

' তৃণমূলের শীর্ষ নের্তৃত্বর সঙ্গে কোনও কথা হয়নি'

 আগাম জামিনের আবেদন করবেন কি, বলতেই দৃঢ় কন্ঠে ছত্রধর জানালেন' সেটা কোর্ট কী রায় দেবে তার উপর নির্ভর করছে। তবে এই মুহূর্তে এই কেস নিয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নের্তৃত্বর সঙ্গে কোনও কথা হয়নি, পুরোটাই আইনজীবির উপর তিনি ছেড়ে দিয়েছেন' বলে জানিয়ে সাক্ষাতকার শেষ করলেন ছত্রধর মাহাতো।