নন্দীগ্রামে গিয়ে মমতার আহত হওয়ার ইস্যুতে সরানো হল ৩ আধিকারিককে। নন্দীগ্রামের ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে  একই সঙ্গে  রাজ্য়ের নিরাপত্তা অধিকর্তা বিবেক সহায়-কে এবং পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারকে পদ থেকে অপসরণ এবং সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন। 

 

 

আরও পড়ুন, 'নন্দীগ্রামে মমতার উপর হামলা হয়নি-কোনও প্রমাণ নেই', সাফ জানাল কমিশন, অস্বস্তিতে তৃণমূল 

 

জেলা শাসককে বদলি করে সেই পদে নতুন অফিসারকে নিয়োগ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয়ে আর কার কর্তব্য়ে গাফিলতি রয়েছে, তাও খুঁজে বার করার নির্দেশ রাজ্য়ের মুখ্যসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে দিয়েছে কমিশন। প্রসঙ্গত, নিরাপত্তা অধিকর্তা বা ডিরেক্টরের অধীনেই মুখ্যমন্ত্রী সহ  রাজ্য়ের সব ভিআইপি দের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনিই নিরাপত্তার দিকে রাজ্যে শীর্ষ দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার। এদিকে মুখ্য়মন্ত্রীর জেলা সফর শুরু হয়ে গিয়েছে। এই সময়ে তারই নিরাপত্তা-অফিসারদের বদলে দেওয়া হলে ব্যবস্থাপণায় সমস্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, প্রয়োজনে সেই সমস্যাগুলি মুখ্যমন্ত্রী নিজেই লিখিতভাবে কমিশনকে জানাতে পারেন। 

 

 

আরও পড়ুন, আজ ময়দানে মুখোমুখি ২, সোমবার ৪ সমাবেশে ঝড় তুলবেন মমতা-শাহ  

প্রসঙ্গত, মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পর বুধবার নন্দীগ্রামে আঘাত পান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। পায়ে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর তীব্র যন্ত্রনা নিয়ে তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন। যদিও ওই ঘটনা না ঘটলে সেদিন নন্দীগ্রামে মমতার থাকার কথা ছিল। এরপর তাঁর পায়ের এক্সরে করালে জানা যায় যে, হাঁড়ে চিড় গিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কমিশনে অভিযোগ জানানো হয় তৃণমূলের তরফে। যে এটা পরিকল্পনা মাফিক হামলা। এদিকে সেই চিঠি পড়ে পছন্দ না হওয়ায় ফের রাজ্যের মুখ্য সচিবকে চিঠি পাঠাতে বলে কমিশন। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই কমিশনের বিশেষ ২ পর্যবেক্ষক যান নন্দীগ্রামের সেই ঘটনাস্থলে।  যাবতীয় ঘটনা খতিয়ে দেখার পর, রিপোর্ট কমিশনে পাঠিয়েছেন ওই ২ পর্যবেক্ষক। এরপরেই 'হামলা নয়, দুর্ঘটনা', বলেই সিলমোহর দেয় কমিশন। এবং কাঠগড়ায় ওঠে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এরপরেই কোপে পড়ে রাজ্য়ে ওই ৩ আধিকারিক।