রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক চাপান উতোর। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জোর দিচ্ছেন। আর বিজেপি সরব হয়েছে রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে। রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্বারাষ্ট্র মন্ত্রক চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে। আর তাই নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবারই তিনি তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আর সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে মমতা বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এখনও ২৪ ঘণ্টাও হয়নি। কিন্তু তারমধ্যেই কেন্দ্র থেকে দল ও মন্ত্রীদের পাঠান হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন বিজেপি নেতারা যত্রতত্র ঘুরে বেড়াচ্ছেন, উস্কানি দিচ্ছেন। রাজ্যে করোনাবাড়ার কারণ হিসেবেই বিজেপি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের আরও একবার দায়ি করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন বিজেপি নেতারা জনতার রায় মেনে নিতে পারেননি। বিজেপি নেতৃত্বকে জনতার রায় মেনে নিতেও অনুরোধ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

কেন্দ্রীয় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল প্রসঙ্গে তিনি বলেন একটি দল এসেছিল।তাঁরা চা পান করে ফিরে গেছে। রাজ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রয়েছে। চালু হয়েছে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত আচরণ বিধিও। আর সেই কারণে এবার থেকে কেন্দ্রীয় কোনও মন্ত্রী এলে তাঁদের আরটি পিসিআর নেগেটিভ রিপোর্ট থাকতে হবে। তাঁরা যদি বিশেষ বিমানে করে আসেন তাহলেও তাঁদের করোনা রিপোর্ট লাগবে। এক্ষেত্রে কোনও বৈষম্য করা হবে না বলেও স্পষ্ট করে তিনি জানিয়েছেন। রাজ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার জন্য তিনি বিজেপিকে দায়ি করেছেন। তিনি বলেছেন বিজেপি নেতারা বারবার আসছেন। সেই জন্য এই রাজ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। 

মুখ্যমন্ত্রী এদিন আবারও করোনাভাইরাসের সংক্রমণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দেশের তরুণ তরুনীদের ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।  বিজেপি নেতাদের উচিৎ এদিক ওদিক না ঘুরে কোভিড হাসপাতাল হুলি পরিদর্শন করা। টিকা করণের জন্য পিএম কেয়ার্স ফান্ডের ব্যবহার হচ্ছে না কেন - তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। বিনামূল্য করোনা টিকা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছেন বলেও জানিয়েছেন। কিন্তু সেই চিঠির এখনও পর্যন্ত কোনও উত্তর প্রধানমন্ত্রী দেননি বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন নতুন সংসদ ভবন আর মূর্তি তৈরির জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু ভ্যাকসিনের জন্য কেন ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে না। এই প্রশ্নও তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।