বিজেপিতে যোগদানের পর শুক্রবার নন্দীগ্রামে শক্তি প্রদর্শ  করলেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। সই নন্দীগ্রামেই বিশাল জনসভা করে শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিলেন  মেদিনীপুরের মাটিতে তার জনসমর্থন। সভায় শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও উপস্থিত উপস্থিত ছিলেন দিলীপ ঘোষ, কৈলাস বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায় সহ অন্যান্যরা। আর নন্দীগ্রামের সভা থেকে আরও একবার সিঙ্গুর প্রসঙ্গ তুললেন মুকুল রায়। আরও একবার সিঙ্গুর আন্দোলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাথ দিয়ে যে তিনি ভুল করেছিলেন তাও শিকার করলেন মুকুল রায়।

রাজ্যে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসানে যে কারণগুলি প্রধান ছিল তার মধ্যে সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, নেতাই অন্যতম। সিঙ্গুরে টাটার কারখানার নামে জোর করে জমি অধি্রহণের করেছে সিপিএম সরকার। সেই অভিযোগে আন্দোলন শুরু করেছিলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী। অবশেষে আন্দোলনের জেরে সিঙ্গুর ছেড়ে গুজরাটের সানন্দে পাড়ি দিয়েছিল টাটারা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই আন্দোলনের অন্যতম সেনাপতি ছিলেন মুকুল রায়। টাটা চলে যাওয়ার পর রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসলেও, শিল্প ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন আসেনি। কোনও ভারী শিল্প হয়নি।তাই দল পরিবর্তনের পর বারবার মুকুল রায়ের মুখে শোনা গিয়েছে সেই আক্ষেপ। 

শুক্রবার নন্দীগ্রামের সভা থেকেও সেই আক্ষেপ আরও একবার করলেন মুকুল। তিনি বলেন,'সিঙ্গুর আন্দোলনে মমতাকে সঙ্গ দেওয়াটা ভুল হয়েছে। সেই টাটাকে বাংলা থেকে তাড়ানোটা ভুল হয়েছে। আমি এখন অনুতপ্ত। সেই কারণে বাংলায় কোনও বড় শিল্প আসেনি। বেকারদের কর্মসংস্থান নেই। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে সিঙ্গুরে টাটাকে ফেরানোর দাবিতে প্রধান মন্ত্রীর কাছে দরবার করা হবে। বেকারদের স্বপ্ন পূরণ করা হবে। সিঙ্গুরে ফের কারখানা হবে।' শেষে বাংলায় আরও একবার পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন মুকুল রায়। রাজনৈতিক মহলের মতে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতায় আসার দুই অস্ত্রকে শান দিয়ে সেই অস্ত্রেই তাকে ঘায়েল করতে চাইছে পদ্ম শিবির।