গতবার ডায়মন্ড হারবারে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিল তার কনভয়। সেই সময় ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। আজ ফের বাংলা সফরে এসে শুরু থেকেই রাজ্য সরকার ও মমতার বিরুদ্ধে আক্রমণাত্বক বিজেপি সভাপতি। শনিবার কাটোয়ার জগদানন্দপুরের সভা থেকে 'কৃষক সুরক্ষা অভিযানের' সূচনা করেন জেপি নাড্ডা। কর্মসূচির পাশাপাশি একাধিক ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে আক্রমণ করেন তিনি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মমতার সরাকের পতন নিশ্চিৎ বলেও জানিয়ে দেন নাড্ডা।

সমাবেশে জনপ্লাবন দেখে আপ্লুত হয়ে পড়েন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। তিনি বলেন, 'আপনাদের এই ভালোবাসাই প্রমাণ করছে রাজ্যে মমতার সরকারের পতন ও বিজেপি সরকারের গঠন অবশ্যম্ভাবি।' তৃণমূল সরকারকে কাটমানির সকরা, বালি চুরির সরকার, কয়লা পাচারের সরকার, চাল চুরির সরকার, আমফানের ত্রাণ চুরির সরকার, দুর্নীতির সরকার বলেও তোপ দাগেন জেপি নাড্ডা। বিজেপির উত্থান দেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভয় পাচ্ছেন বলেও জানান বিজেপি সভাপতি। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় যে নিশ্চিৎ তা সভা শেষে আরও একবার পরিষ্কা করে দেন জেপি নাড্ডা।

এদিন কৃষক সুরক্ষা অভিযানের সূচনা করার পাশাপাশি তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার কৃষক দরদী সকার। এর আগে কৃষি ক্ষেত্রে সরকারের বাজেট ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা। মোদীজি লেই বাজেট বাড়িয়ে ১ লক্ষ ৩৪ হাজার কোটি টাকা করেছে। এছাড়া কৃষক সম্মান নিধি প্রকল্পের সূচনা মমতা সরকারের জন্য রাজ্যে কৃষকরা পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন নাড্ডা। আগে বিরোধীতা করলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারকে কৃষক সম্মান নিধি নিয়ে যে চিঠি দিয়েছেন তারও কটাক্ষ করেন বিজেপি সভাপতি। নাড্ডার স্পষ্ট বার্তা, প্রথমে বিরোধীতা করে পরে প্রকল্পের আওতায় আসার চিঠি দিচ্ছেন? আপনার চিঠির দরকার নেই। বিজেপি সরকার গঠন করে কৃষকদের সেই সুবিধা দেবে।ট

বর্ধমানকে রাজ্যের শস্যগোলা বলা হয়। এখানে বৃহৎ অংশের একটা মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রে কৃষি বিলের প্রতিবাদে দিল্লির রাজপথে কৃষকদের যে আন্দোলন চলছে তাতে সরকারের ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও ক্ষুন্ন হয়েছে। রাজ্যের কৃষকদের কাছে কৃষক দরদী ভাবমূর্তি তুলে ধরার জন্য বর্ধমানকে কৃষক সুরক্ষা অভিযানের সূচনা স্থল হিসেবে বেছে নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। এছাড়া বাংলা কৃষি প্রধান রাজ্য। নির্বাচনে কৃষকদের মন পেতেই এবার ময়দানে নেমেছে পদ্ম শিবিরের নেতারা।