ডালিয়া সরকার:  ভোটের ফলাফলের পর থেকেই রাজ্য জুড়ে চলছে ব্যাপক হিংসা ও সংঘর্ষ। গত দুদিনে ভোট-পরবর্তী হিংসার বলি হয়েছেন অন্তত ১০ জন। কোচবিহারেও রাজনৈতিক হিংসার ছবিটা আলাদা নয়। এই মুহূর্তে ঘরছাড়া রয়েছেন প্রায় হাজারের উপর মানুষ। আহত হয়েছেন শতাধিক। এরপরই এই হিংসা বন্ধের বিষয়ে রাজ্য সরকারকে কার্যত সতর্ক করলেন কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন বা কেএলও (KLO) সুপ্রিমো জীবন সিংহ।

দুই দিনাজপুর, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং অসমের কিছু অংশ নিয়ে, পৃথক কামতাপুর রাজ্য গঠনের দাবি জানিয়ে আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন কেএলও প্রধান। দুই দশক আগে তাদের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে কাঁপত উত্তরবঙ্গ। তারপর ধীরে ধীরে তাদের আন্দোলন পালে বাতাস হারিয়েছিল। দীর্ঘদিন বাদে ফের গোপন ডেরা  থেকে মুখ খুললেন জীবন সিংংহ। এদিন এক ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, কোচবিহারে রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষের উপর অনবরত হামলা করা হচ্ছে। এই রাজনৈতিক হিংসার বিরুদ্ধে রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান জীবন।

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বছরের পর বছর ধরে রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষকে শোষণ করে আসছে। তাই আর কোনও রাজনৈতিক দল নয়, সবাইকে প্রত্যাখ্যান করে রাজবংশী জাতিকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চতুর্থ পর্যায়ের নির্বাচনে কোচবিহারের শীতলকুচিতে একই দিনে ৫ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল। নির্বাচনের ল ঘোষণার পরও সেখানে রাজনৈতিক হিংসা থামেনি। আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে পাশের রাজ্য অসমে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় কয়েক হাজার পরিবার। এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে, শাসক দলকে ছেড়ে কথা বলবেন না বলে কীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সাফ জানিয়েছেন জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি আছে  হাজার হাজার কেএলও সেনা।