প্রায় ১ বছর আগে দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে আক্রান্ত হয়ে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন ঐশী ঘোষ। এক বছর পর ২৬ বছরের এই ছাত্রীনেত্রীই প. বর্ধমানের জামুরিয়া বিধানসভা আসনের সিপিআই প্রার্থী। ছাত্র রাজনীতির অঙ্গন থেকে সরাসরি রাজ্য রাজনীতির বিরাট মঞ্চে জেএনইউ-এর শিক্ষার্থী সংসদের সভানেত্রী। শনিবার, তাঁকে স্থানীয় কমরেডদের সঙ্গে প্রচারে নেমে পড়তেও দেখা গিয়েছে। কতটা কঠিন তাঁর লড়াইটা? আদৌ কি ভোটে কোনও প্রভাব ফেলতে পারবেন এই তরুণ তুর্কি? আসুন চিনে নেওয়া যাক এই তরুণ বাম প্রার্থীকে।

লড়াইয়ে সামনের  সারিতে

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদই বোক, কিংবা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (CAA)-এর বিরুদ্ধে আন্দোলন - ঐশী ঘোষকে সবসময়ই দেখা গিয়েছে আন্দোলনের সামনের সারিতে। পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুর থেকে স্কুলের পড়াশোনার পাঠ চোকান তারপর নয়াদিল্লির দৌলত রাম কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি। সেইসময় থেকেই এসএফআই-এর হাত ধরে ছাত্র রাজনীতি শুরু। এরপর জেএনইউতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য ভর্তি হয়েছিলেন। তারপর স্কুল অফ ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস থেকে এমফিল। এখন পিএইচডি শিক্ষার্থী। এরমধ্যে জারি থেকে এসএফআই-এর পতাকাতলে যাত্রা।

লাজুক থেকে লড়াকু

গত দুই বছরে নেত্রী হিসাবে তাঁর উত্থান তাঁর পরিবার ও নিকটজনদের কাছে বিস্ময়কর ছিল। তাঁরা ঐশীকে চেনেন লাজুক হিসাবে। তাঁর উপর হামলার পর তিনি যেভাবে মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধে লড়াইয়ের আঙইনায় ফিরে এসেছিলেন, তা সেই লাজুক মেয়েটার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তবে তাঁর পরিবার বরাবরই বাম মনোভাবাপন্ন। বাবা, ডিভিসি-র প্রাক্তন কর্মচারী দেবাশীষ ঘোষ সিপিএম-এর শ্রমিক সংগঠন, সিটু (CITU)-র সদস্য ছিলেন। ফলে বাম রাজনীতির প্রতি ঝোঁকটা তৈরি হয়েছিল বাড়ি থেকেই।

স্পষ্টবাদী

জেএনইউ-এর বন্ধুরা অবশ্য ঐশীকে চেনে স্পষ্টবাদী হিসাবে। জেএনএসইউ-এর সভাপতি হওয়ার বহু আগে থেকেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীদের সমস্যার বিষয়গুলি তুলে ধরতেন। এর জন্য ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রথম থেকেই তিনি দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন। জেএনইউ-তে পা রাখার দিনই তাঁকে জেএনএসইউ নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী করেছিল এসএফআই। জেএনইউতে ঐশী পরপর দুবার কাউন্সেলর পদে জিতেছিলেন।

বহিরাগত

বিরোধী তৃণমূল ও বিজেপি - দুই পক্ষই নির্বাচনে সিপিএম-এর পক্ষ থেকে ঐশী ঘোষের মতো একজন তরুণ প্রার্থীকে দাঁড় করানোকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে, ঐশী সম্পর্কে দুই পক্ষেরই অভিযোগ একই - বহিরাগত। বাংলার রাজনীতিতে এখন এই শব্দবন্ধ দারুণ চলছে। বিরোধীদের মতে ঐশী ঘোষ জেএনইউতে রাজনীতি করেছেন। লেখানকার আর বাংলার রাজনীতির 'ব্র্যান্ড' আলাদা। বিশেষ করে জামুয়ারিয়া কয়লা খনি এলাকার নির্বাচনী কেন্দ্র। উপজাতি অধ্যূষিত এলাকা। ঐশী ঐ অঞ্চলটি আদৌ বোঝেন কিনা, সেখানকার মানুষের চাহিদা বোঝেন কি না, এইসব প্রশ্ন তুলছে তারা। তৃণমূল-বিজেপি একসুরে বলেছে, সিপিএম দিল্লি থেকে কাউকে প্রার্থী করে না এনে স্থানীয় কোনও যুবনেতাকে প্রার্থী করলে বেশি খুশি হতেন তাঁরা।