২৮ ফেব্রুয়ারির ব্রিগেড সভার পর আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে গুরুত্ব বেড়েছে বাম-কং-আইএসএফ জোট বা সংযুক্ত মোর্চার। তৃণমূল কংগ্রেস-বিজেপি দ্বিমুখী লড়াইয়ে মোর্চা ডার্ক হর্স হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন অনেক নির্বাচনী বিশ্লেষকই। তবে জোট নিয়ে কিছুটা জট এখনও রয়ে গিয়েছে। প্রথমে কংগ্রেস তারপর বামেদেরও অন্দর থেকে আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট নিয়ে আপত্তি উঠেছে। তারমধ্য়েই সামনে এল বামেদের প্রার্থী তালিকা নিয়ে বড় খবর।

বামফ্রন্ট সূত্রে, খবর এবার বামেদের প্রার্থী তালিকায় দেখা যাবে অনেকানেক নতুন মুখ। পুরোনো মুখদের অনেককেই সরিয়ে দেওয়া হবে। ৬০ শতাংশ প্রার্থীই হতে পারেন নতুন। মূলতঃ বয়স্ক মুখদের সরিয়ে তারুণ্যের উপর জোর দেওয়া হবে, বলেই দলীয় সূত্রে খবর। তবে ২০১৬-র নির্বাচনে যাঁরা জিতেছেন, তাঁরা সকলেই ফের টিকিট পাবেন।

শোনা যাচ্ছে টালিগঞ্জ কেন্দ্রে সিপিএম-এর টিকিট পেতে চলেছেন ছোট ও বড় পর্দা এবং মঞ্চের অভিনেতা দেবদূত ঘোষ। আর রাজারহাটে সম্ভবত প্রার্থী হতে চলেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেবের পুত্র তথা বাম যুব সংগঠনের নেতা সপ্তর্শী দেব। দিল্লির জেএনইউ-এর ছাত্র নেত্রী ঐশী ঘোষ-কে দাঁড় করানো হতে পারে দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্র থেকে।

অন্যদিকে এইবার নির্বাচনে সম্ভবত লড়বেন না সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। তাঁর বদলে লড়তে পারেন তরুণতর নেতা তাপস সিনহা৷ চণ্ডীতলা থেকে লড়তে পারেন প্রাক্তন সাংসদ মহম্মদ সেলিম৷ শালবনী কেন্দ্রে প্রার্থী হচ্ছেন সুশান্ত ঘোষ৷ বালুরঘাটে প্রাক্তন কারামন্ত্রী বিশ্বনাথ চৌধুরীর বদলে প্রার্থী হতে পারেন সুচেতা বিশ্বাস৷

জানা যাচ্ছে বাম নেতারাও দফাওয়ারি প্রার্থী ঘোষণা করতে চাইছেন। প্রথম দফার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৯ মার্চ। তার ঠিক আগেরদিন, অর্থাৎ ৮ মার্চই বামেদের প্রথম দফা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। একইসঙ্গে, প্রার্থী তালিকা ঘোষণার মধ্য দিয়ে জোট বার্তা আরও জোরালো করতে চাইছেন জোটের নেতৃত্বে থাকা বাম নেতারা। ওইদিন কংগ্রেস ও আইএসএফ নেতাদের পাশে নিয়ে একসঙ্গেই সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করার পরিকল্পনা করেছে বামেরা।