নন্দীগ্রামে গিয়ে পায়ে আঘাত পেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হুইল চেয়ার ছাড়া চলাফেরার গতি নেই। আর সেভাবেই একর পর এক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তিনি। সোমবার সেই হুইলচেয়ারে বসেই চ্যালেঞ্জ করলেন বিজেপি নেতাদের, দেখি আপনারা বাংলার মাটিতে কতদিন হাঁটতে পারেন। পুরুলিয়ার জনসভা থেকে  রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের বিরুদ্ধেও আনলেন বিস্ফোরক অভিযোগ।

নন্দীগ্রামের ঘটনার পর বেশ কয়েকদিন কেটে গিয়েছে। এতদিন এই নিয়ে রা টি কাড়েননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন মুখ খুললেন, আর খুলেই তাঁর প্রশ্ন 'পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের গুন্ডাবাহিনির হাতে নিহত ১৩০ জন বিজেপি কর্মীর বেদনার কী হবে?' নন্দীগরামমের ঘটনার অব্যবহিত সময় পরই মমতা অভিযোগ করেছিলেন এর পিছনে চক্রান্ত রয়েছে। পরে তাঁর দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের দিকেও আঙুল তোলা হয়।

এদিন, বাঁকুড়ার রানীবাঁধের জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে, সেই ষড়যন্ত্রের তত্ত্বকে ব্যঙ্গ করে অমিত শাহ বলেন, তাঁর হেলিকপ্টারটিতে প্রযুক্তিগত সমস্যা হয়েছিল। তাই তিনি রানীবাঁধে সভায় তিনি দেরি করে পৌঁছেছেন। তবে এর পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র আছে, এমনটা তিনি বলবেন না।

পুরুলিয়ার সভায় মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় অবশ্য এদিনও তাঁর দাবিতেই স্থির ছিলেন। হুইলচেয়ারে বসে তিনি বলেন, পায়ের আঘাত থেকে তিনি দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠবেন। কিন্তু, বিজেপির নেতারা আর কতদিন বাংলার মাটিতে হাঁটাচলা করতে পারেন, সেটা তিনি দেখতে চান। তাঁর মতে বিজেপি নেতাদের হাতে আর মাত্র কয়েকদিন সময় আছে। তিনি আরও বলেন, আঘাতের কারণে তিনি মানুষের কাছে পৌঁছতে পারবেন না বলে ভেবেছিল কেউ কেউ। কিন্তু, তাঁর ব্যথা, জনগণের ব্যথার তুলনায় কিছুই নয়।

এদিনের সভা থেকে তিনি আরও অভিযোগ করেন,তাঁর কাছে খবর আছে যে,  প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ড থেকে বিজেপির মতদপুষ্ট গুন্ডারা বাংলায় প্রবেশ করছে। এমনকী, রেলমন্ত্রী-সহ বিজেপির কয়েকজন নেতা পুরুলিয়ায় স্থানীয় গ্রামবাসীদের এই গুন্ডাবাহিনীর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতেও বলেছেন বলে অভিযোগ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। এই গুন্ডারা নির্বাচনের সময় দাঙ্গা হাঙ্গামা করতে পারে বলে আশঙ্কা তৃণমূল নেত্রীর। তিনি আরও জানান, অযোধ্যা পর্বতের দিক থেকে এই অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। এই নিয়ে তিনি ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন-এর সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।