উত্তম দত্তঃ চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এক লক্ষ ভোটে জিতবেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। এ দাবি স্বয়ং প্রার্থীর। বুধবার চুঁচুড়া বিধানসভা এলাকায় গিয়েছিলেন তিনি। সেখানকার প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার পর থেকেই ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল বিজেপির মধ্যে। সে বিক্ষোভের জেরে এলাকায় পা রাখতে পারেননি লকেট। হুগলির সাংসদ লকেটকেই চুঁচুড়া বিধানসভার প্রার্থী করা নিয়ে দলের মধ্যে আপত্তি উঠেছে, দলের বাইরে সমালোচনার ঝড় বইছে। 

এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে লকেট দৃশ্যত ছিলেন স্মার্ট। তবে তিনি বারবার গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা অস্বীকার করতে চাইলেও মাঝেমধ্যেই বড় সংগঠনে অশান্তি ঘটে, এ কথাও স্বীকার করে নিয়েছেন। দলীয় দফতর ভাঙচুরের ঘটনাকে তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের চক্রান্ত বলে। লকেটের বক্তব্য, সিঙ্গুর থেকে বেচারাম মান্নার লোকজন এসে এই হামলা করেছে। ছবি ও ভিডিও দেখে এইসব ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে বলে জানান প্রাক্তন এই টলি অভিনেত্রী। 

লকেট চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁদের দলে উপর মহল যা সিদ্ধান্ত নেয়, তাকেই মেনে নিতে হয়। এমনকী, তিনি এও বলেছেন যে সিদ্ধান্ত পাল্টানোর কোনও প্রশ্ন নেই। সাংসদ থাকা অবস্থাতেই কেন তিনিই বিধায়ক পদের জন্য মনোনীত হয়েছেন, এ প্রশ্নের উত্তরেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের কথাই বলেছেন লকেট। লকেট চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, হুগলি লোকসভার অন্তর্গত সাতটি বিধানসভাতেই বিজেপি জিতবে। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী। 

হুগলি জেলার বেশ কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে বিক্ষোভ তৈরি হয়েছে বিজেপির মধ্যে। লকেট চট্টোপাধ্যায়কে চুঁচুড়ার টিকিট দেওয়া ক্ষুব্ধ হয়ে রাজনীতি থেকে সন্ন্যাসগ্রহণের কথা ঘোষণা করেছেন সুবীর নাগ। লকেটকে প্রার্থীবাছাইয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয়, দুদিন আগে ত্রিবেণীতে রেল লাইনে গলা দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন নিরুপম মুখোপাধ্যায় নামের এক স্থানীয় বিজেপি নেতা। তাঁকে বুঝিয়েসুজিয়ে নিরস্ত করা হলেও, তিনি হুমকি দিয়ে রেখেছেন, পুরনো বিজেপি কর্মীদের গুরুত্ব না দেওয়া হলে তিনি দলীয় কার্যালয়ের সামনে গায়ে আগুন দেবেন। 

দলে ৭৫ বয়সীদের বেশি কাউকে প্রার্থী না করার নিয়ম ভেঙে নব্বই বছর বয়স্ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে কেন সিঙ্গুর কেন্দ্রে প্রার্থী করা হল, সে প্রশ্নের উত্তরেও লকেট বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃচ্বের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, তাকেই মেনে নিতে হবে। বিজেপি কর্মীর উপর বুলেট-হামলার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তাঁদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে, তবে এসব ঘটনায় শেষ পর্যন্ত কেউ পার পাবে না।