সামনে ১০ জোড়া ঢাকি। তার পিছনে তৃণমূলের দলীয় পতাকা হাতে মহিলারা। তার পেছনে ধামসা মাদল বাজছে ডুম ডুমা ডুম ডুম। আর একেবারে পেছনে রিকশা চালিয়ে মনোনয়ন আসছেন প্ৰার্থী। এমন কাণ্ড দেখে শুক্রবার চুঁচুড়ার মানুষ অবাক হয়ে যান। বলাগড় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। তাঁকেই এদিন এই অবস্থায় দেখা গেল।

বলাগড় বিধানসভা আসনের বিদায়ী বিধায়ক, তৃণমূলেরই অসীম মাজি। কিন্তু, তাকে এইবার প্রার্থী করা হয়নি। পরিবর্তে মুকুন্দপুর থেকে এনে মনোরঞ্জন ব্যাপারীকে দলীয় টিকিট দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভায় বলাগড় এই কেন্দ্রে বিজেপির থেকে প্রায় ৩৫ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তাছাড়া দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্বও পৌঁছেছিল চরম পর্যায়ে। সেই কারণেই প্রার্থী বদলানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তবে এদিন, বিদায়ী বিধায়ক অসীম মাজি-কে পাশে নিয়েই প্রচারে গিয়েছিলেন মনোরঞ্জন। মতুয়া সম্প্রদায়ের ববহু মানুষও অংশ নিয়েছিলেন মিছিলে।

মনোরঞ্জন ব্যাপারীর ব্যক্তিগত জীবন ঘাত-প্রতিঘাতে ভরা। প্রচন্ড অভাবের মধ্য দিয়ে বড় হন তিনি। একসময়য় চুরির দায়ে জেলে যেতে  হয়েছিল। পেটের দায়ে রিকশাও চালিয়েছেন। তবে, প্রয়াত সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীর সংস্পর্শে এসে তাঁর জীবন বদলে যায়। পড়াশোনায় ডুবে যান তিনি। তাঁর কলম থেকে বেড়িয়ে আসে বহু সাহিত্যকর্ম। আর সেই প্রখ্যাত সাহিত্যিকই এদিন চুঁচুড়ার পিপুলপাতি মোড় থেকে প্রায় দু কিলোমিটার রিকশা চালিয়ে জেলাশাসক দফতরে এসে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। কিন্তু, হঠাৎ রিকশা চালালেন কেন তিনি?

মনোরঞ্জন জানিয়েছেন, রিকশা চালিয়ে, তিনি বার্তা দিতে চেয়েছিলেন, তিনি সমাজের খেটে খাওয়া প্রান্তিক মানুষের প্রতিনিধি। তাঁর দাবি লোকসভা ভোটে পিছিয়ে থাকাটা কোনও বিষয়ই নয়, বলাগড় বিধানসভা থেকে  তিনি এবার ৩৫ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতবেন। এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই এদিন তিনি খাদির ফতুয়া, গলায় গামছা, মলিন ট্রাউজার, পায়ে প্লাস্টিকের চটি আর হাতে ডলা খৈনি নিয়েই ভোটের বাজারে নেমেছেন মনোরঞ্জন। চুঁচুড়াবাসী বলছে, আর কিছু না হোক, এ এক অন্য রকমের প্রার্থী দেখা গেলো বটে।