এক সময় জঙ্গল মহলের দোর্দন্ডপ্রতাপ নেতা ছিলেন। দীর্ঘ বছর পর জেলের বাইরে বেরিয়েই ফের সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরেছেন ছত্রধর মাহাতো। যোগ দিয়েছেন রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা ভোটে জঙ্গলমহলে হারানো ভোট পুনরুদ্ধারের জন্য ছত্রধরকেই হাতিয়ার করেছে ঘাসফুল শিবির। সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে এবার কলকাতা হাইকোর্টে নয়া মাত্রা পেল ছত্রধর মাহাতো মামলা। যা ভোটের উত্তাপ আরও বাড়াবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

ছত্রধরকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাইকোর্টে মরিয়া চেষ্টা চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। শুক্রবার ছত্রধর মাহাতোর বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতের যাবতীয়  নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি থোট্টাথিল ভাস্করণ নায়ার রাধাকৃ্ষ্ণণ ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এনআইএ-র বিশেষ আদালতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তরফে ছত্রধর মাহাতো সহ ৫ জনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আবেদন করা হয়। ২০০৯ সালে রাজধানী এক্সপ্রেস অপহরণ ও ২০০৭ সালে সিপিআইএম নেতা প্রবীর মাহাতো খুনের কিনারা করতে ছত্রধরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তদন্তকারিরা।

এদিন কলকাতা হাইকোর্টে ছত্রধর মাহাতোর আইনজীবি বলেন,, ২০০৭ সালে সিপিআইএম নেতা প্রবীর মাহাতো খুন হন। তাদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে (৩০২/১২৩) ধারায় খুন ও দেশদ্রোহীতার মামলা দায়ের করা হয়। যার সর্বোচ্চ সাজা আমৃত্যু কারাদণ্ড। ১৩ বছর বাদে ছত্রধর মাহাতো—সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে (ইউএপিএ)‌ধারা যোগ করার কারণ কি? আইন অনুযায়ী  এনআইয়ের মামলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হতে পারে না। মূলত এনআইয়ের বিশেষ আদালত এবং হাই কোর্টে হতে পারে।  হাই কোর্ট যাতে অবিলম্বে ছত্রধর মাহাতোর জামিন খারিজ করে তার আবেদন জানায় তারা। ফলে শুক্রবার হাইকোর্টে ছত্রধর মাহাতো মামলার উপর নজর থাকবে গোা রাজ্যের।