ভোট এলেই প্রতিশ্রুতি, আর ভোট পেড়োলেই দেখা মেলেনা কারোর। দীর্ঘ বছরের রাস্তা সাড়াইয়ের দাবী অপুর্ণই থেকে গেছে রায়গঞ্জের সুভাষগঞ্জ ঘোষপাড়ার বাসিন্দাদের। বেহাল রাস্তা সংস্কারের দাবী জানিয়ে কোনো সুরাহা না মেলায় তাই এবারের ভোটে প্রার্থীদের থেকে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কথা জানাচ্ছেন বাসিন্দাদের অনেকাংশ। আবারও আরেকটা ভোট, প্রচারে আসছেন প্রার্থীরা। তবে রাস্তা না পেলে ভোট দেবেন কিনা তা ভেবে দেখার দিন এসেছে বলে সাফ জানাচ্ছেন বাসিন্দারা। 

বস্তুত, উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ শহর থেকে মাত্র কয়েকশো মিটার দুরেই রায়গঞ্জ ব্লকের ১০ নং মাড়াইকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের  সুভাষগঞ্জ এলাকার বিবেকানন্দ মোড় থেকে ঘোষপাড়া হয়ে ভাতঘরা মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা একেবারে জরাজীর্ণ। রাস্তার বেশিরভাগ অংশই পিচ ও পাথর পুরোপুরি উঠে গিয়ে কঙ্কালসার অবস্থা। অনেকটা অংশে রাস্তার কোনো অস্তিত্বই নেই। আর এই রাস্তা দিয়েই প্রতিনিয়ত ভাতঘরা, অনন্তপুর, দুবদুয়ার, ভিটিহার এমনকি পার্শ্ববর্তী বিহার রাজ্য থেকেও দৈনিক বহু মানুষকে রায়গঞ্জ শহরে যাতায়াত করতে হয়। চলাফেরা করে প্রচুর যানবাহন। কিন্তু এই বেহাল রাস্তায় যাতায়াতে সাইকেল আরোহি বা টোটো এমনকি মোটর বাইক চালকদের দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় বলে দাবী। তাছাড়া এই জরাজীর্ণ রাস্তা দিয়ে কোনো রোগি বা প্রসুতিদের রায়গঞ্জ মেডিকেল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া কার্যত প্রায় দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলে এলাকাবাসীদের দাবী। শুধু তাইই নয়, বর্ষাকালে এই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ে বলে তাদের দাবী। পাশাপাশি রাস্তার হাল এতটাই খারাপ যে এই চত্ত্বরে রোগিদের নিয়ে কোনো এ্যাম্বুলেন্সও আসতে চায়না বলে তাদের দাবী। 

যদিও ইতিপুর্বের বিধানসভা, পঞ্চায়েত বা লোকসভা ভোট গুলিতে প্রচারে আসা প্রত্যেক প্রার্থীর কাছেই এই রাস্তা মেরামতের দাবী জানানো হলেও ভোট মিটতেই কেউ আর এই এলাকামুখো হননা বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ। তাই এবারের ভোটে ঘোষপাড়া থেকে ভাতঘরা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষেরা ভোটে অংশ নেবেন কিনা তা ভেবে দেখার সময় এসেছে বলে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। তবে ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের একাংশের দাবী, আর রাস্তা চাই না আমরা এতেই ভালো আছি। তবে এবারের ভোটে রাস্তা না পেলে ভোটও হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন এলাকার ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। যদিও স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের দাবী, নির্বাচন ঘোষনা হয়ে যাওয়ায় এই মুহুর্তে কাজ হচ্ছে না। তবে ভোট মিটে গেলে রাস্তা মেরামতির কাজ হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন পঞ্চায়েত সদস্য। তবে স্থানীয়রা ইতিমধ্যেই এলাকার দেওয়ালে "নো রোড, নো ভোট" লিখে ভোট বয়কটের হুশিয়ারি দিয়েছেন।