বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়লেন সিঙ্গুরের মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। ২০০১, ২০০৬, ২০১১ এবং ২০১৬ - পরপর চারবার তৃণমূলের টিকিটে এই আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। এইবার তাঁর বদলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী করেছেন বেচারাম মান্নাকে। আর প্রার্থী তালিকা জানার পরই সংবাদমাধ্যমের সামনে কেঁদে ফেললেন বর্ষীয়ান এই নেতা। তাঁর মতে এতে করে বিজেপির সুবিধাই করে দিলেন মমতা।

এদিন তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সিঙ্গুরের মাস্টারমশাইকে এইবার টিকিট দেওয়া হচ্ছে না বয়সোচিত কারণে। তৃণমূলের এইবারের প্রার্থী তালিকা তৈরির সময়, নীতি নেওয়া হয়েছে ৮০-র ঊর্ধ্ব কোনও ব্যক্তিকে প্রার্থী করা হবে না। কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত, বলে জানান মমতা। সেই নীতির কোপেই পড়েছেন রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য।

৮৯ বছর বয়সী মাস্টারমশাই-এর অবশ্য দাবি, বয়সের প্রসঙ্গটা তাঁকে বাদ দেওয়ার একটা অজুহাত মাত্র। তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বকে চরম ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, তাঁর বয়স হয়েছে। তিনি তোলাবাজি করতে অসমর্থ। কাটমানি, তোলাবাজি যারা করতে পারে, তারাই এখন দলেকে শক্তিশালী করবে। টাকা তুলে দিতে পারেন না বলেই তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, মাস্টারমশাই-এর ছেড়ে যাওয়া আসন থেকে দাঁড়াচ্ছেন সিঙ্গুরের আরেক তৃণমূল নেতা বেচারাম মান্না। শুধু তিনিই যে সিঙ্গুর কেন্দ্র থেকে দঁড়িয়েছেন তা নয়, হুগলী জেলারই হরিপাল কেন্দ্র থেকে বেচারাম মান্নার স্ত্রী করবী মান্নাকেও প্রার্থী করা হয়েছে। এতে করে বিজেপিরই সুবিধা করে দিলেন মমতা, এমনটাই মনে করছেন রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য।

তবে এখনও বিজেপির হয়ে প্রচারে যাবেন বা ভোটে লড়বেন না বলেই জানিয়েছেন তিনি। আগামী কয়েকদিন আলোচনা করে দেখতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-ও যদি বলেন, তবুও বেচাারাম মান্নাদের হয়ে প্রচার করবেন না, বলেই জানিয়েছেন বর্ষীয়ান এই তৃণমূল কংগ্রসে নেতা।