বিজেপির কাছে হিংসা ছাড়া আর কিছুই নেই। তামিলনাড়ু ও অসমের মতো বাংলাকেও ভাগ করার চেষ্টা করছে। বাংলা ভাগ হলে যে আগুন জ্বলবে, তার আঁচ মোদী-অমিত শাহের গায়ে লাগবে না, জ্বলবে গোটা বাংলা। এমন আগুন জ্বলবে, যা এখানকার মানুষ আগে কখনও দেখেননি। বাংলার নির্বাচনে প্রথমবার প্রচারে  এসে বিজেপির বিরুদ্ধে ফ্রন্টফুটে খেললেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিষয়ে বলতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী একটু সাবধানী ভাবেই খেললেন।

বাংলায় ৪ দফা ভোটগ্রহণ হয়ে গিয়েছে। এতদিন ধরে প্রশ্নটা ঘুরছিল, কবে প্রচারে আসবেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীরা? অবশেষে বুধবার, বাংলায় পা  পড়ল রাহুলের। এদিন, উত্তর দিনাজপুর জেলায় গোয়ালপোখর বিধানসভা আসনে সংযুক্ত মোর্চা সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী নাসিম এহেসান-এর সমর্থনে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা করেন রাহুল। লোধন হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এই জনসভায় রাহুল গান্ধী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সম্পাদিকা দীপা দাসমুন্সী। ছিলেন,  গোয়ালপোখর, চাকুলিয়া, চোপড়া,  এবং ইসলামপুর বিধানসভার সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীরাও।

এদিন, দিল্লি থেকে এক বিশেষ বিমানে করে বাগডোগরা বিমানবন্দরে আসেন রাহুল গান্ধী৷ এরপর প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি হেলিকপ্টারে করে আসেন গোয়ালপোখরের লোধন হাইস্কুল মাঠে। বাংলায় সংযুক্ত মোর্চা যেখানে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একই সুরে আক্রমণ শানাচ্ছে, বিজেমূল বলছে, সেখানে রাহুল গান্ধীর আক্রমণের মূল লক্ষ্যই ছিল বিজেপি। নোটবন্দী, জিএসটি লাগু, কৃষি আইন, শ্রম আইন, আচমকা লকডাউন জারি করার মতো বিষয় নিয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান কংগ্রেসেরএই কেন্দ্রীয় নেতা। তাঁর দাবি, লকডাউনের সময় গোটা দেশ যখন না খেতে পেয়ে মরেছে, তখন মোদীজী তাঁর কয়েকজন শিল্পপতি বন্ধুদের হাজার হাজার কোটি টাকা বিলি করেছেন।

অন্যদিকে, রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর সুর ছিল অনেকটাই নরম। চাহিদা মেনে কর্মসংস্থান, উন্নয়ন, কাটমানি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে আক্রমণ করেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি। তৃণমূলের খেলা হবে স্লোগানকেও ঠোকেন তিনি। রাহুল বলেন, 'এখন তৃণমূল বলছে খেলা হবে। সড়ক হয়নি, কলেজ হয়নি তাহলে খেলা কোথায় হবে?' দেশের মধ্যে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই কাটমানি দিয়ে কাজ নিতে হয় বলেও কটাক্ষ করেন।

বিজেপির সঙ্গে তৃণমূল যে একসময় জোটে ছিল, তাই নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি রাহুল। তিনি বলেন, কংগ্রেস কোনওদিনই বিজেপির সঙ্গে জোট করেনি, করবেও না। কারণ, কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপি-আরএসএস'এর লড়াই শুধু রাজনীতির লড়াই নয়, এটা আদর্শের লড়াই। তৃণমূলের সেই আদর্শ নেই বলেই তারা কখনও বিজেপির বিরোধিতা করে,  কখনও জোট করে। তাই, বিজেপিকে আটকাতে এবং বাংলাকে বাঁচাতে সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান। জানান রাহুল গান্ধী।

আরও পড়ুন - মমতা-র উপর অভিমানী 'মীরজাফর'এর পরিবার, তৃণমূল সমর্থক হয়েও দেবে না ভোট

আরও পড়ুন - ক্রমে 'বাংলার ট্রাম্প' হয়ে উঠছেন মমতা, নির্বাচনে পরাজয় হলে মেনে নেবেন তো

আরও পড়ুন - করোনা আক্রান্ত যোগী আদিত্যনাথ, বঙ্গ ভোটে তারকা হারালো বিজেপি

পরে, মাটিগারা-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে, সংযুক্ত মোর্চার কংগ্রেস প্রার্থী শঙ্কর মালাকারের সমর্থনে এক জনসভা করেছেন রাহুল। সেখানেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে নরেন্দ্র মোদীকেই বেশি বেশি করে আক্রমণ করেছেন রাহুল। সবকিছু দেখেশুনে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাহুল আসলে ভারসাম্যের খেলা খেলছেন। কেরলের নির্বাচন চলাকালীন তাঁর পক্ষে বাংলায় এসে প্রচার করা কঠিন ছিল। কারণ কেরলে যে বামেরা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী, বাংলায় তারাই জোটসঙ্গী। আর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে প্রয়োজন পড়তে পারে রাহুলের। অনেকে বলছেন অতদূরেও নয়, ২০২১-এর ফল বের হওয়ার পরও মমতা-কংগ্রেস কাছাকাছি আসা একেবারেই অসম্ভব নয়।