শমিকা মাইতি: ২০০৭ সালে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান লাডলি লক্ষ্মী যোজনা প্রকল্পটির সূচনা করেন তার রাজ্যে। কন্যাসন্তানকে হেয় চোখে দেখার যে মনোভাব কাজ করে আমাদের সমাজে, সেটা দূর করাই এই প্রল্পের উদ্দেশ্য। আর একটু বৃহত্তর আঙ্গিকে বলা যায় কন্যাসন্তান ও পুত্রসন্তানের মধ্যে যে বৈষম্য রয়েছে সাধারণ মননে, তা মেটানোর লক্ষ্যে এই প্রকল্প চালু করা হয়। প্রকল্পটি জনপ্রিয় হওয়ার পর অন্য কয়েকটি রাজ্য এই মডেল অনুসরণ করছে। ২০০৬ সালের ১ জানুযারি বা তার পরবর্তী সময়ে দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করা কন্যাসন্তানরা এই প্রকল্পের আওতায় আসছে।

লাডলি লক্ষ্মী যোজনা সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

• কন্যাসন্তানদের শিক্ষাদানে আর্থিক সাহায্য করা এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। কন্যাসন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাবে সরকার, যাতে তাদের স্কুলে পাঠাতে কোনও আপত্তি না থাকে পরিবারের লোকেদের। তবে, স্কুল ছেড়ে দিলে এই আর্থিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাবে।
• ১৮ বছর বয়সের পরে মেয়েদের বিয়ে হলে ১ লক্ষ টাকা অনুদান মিলবে। ১৮ বছরের আগে বিয়ে হলে এই টাকা পাওয়া যাবে না। আর ২১-এ পৌঁছনোর পর বিয়ে হোক বা না হোক এই এক লক্ষ টাকা পেয়ে যাবে প্রকল্পের আওতায় থাকা সমস্ত কন্যাসন্তান।
• এই প্রকল্পের আওতায় আসছে এমন কন্যাসন্তানদের জন্মের পর থেকে প্রতি বছর ৬ হাজার টাকার একটা করে এনএসসি কাটবে সরকার। ৫ বছর পর্যন্ত এনএসসি কাটা হবে যাতে ৩০,০০০ টাকা মূল্যের এনএসসি থাকে ওই কন্যাসন্তানের নামে।
• এই প্রকল্পের আওতায় আসবে যে কন্যাসন্তানরা, তারা ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠলে ২ হাজার টাকা, নবম শ্রেণিতে উঠলে ৪ হাজার টাকা এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে উঠলে আরও ৬ হাজার টাকা করে পাবে।
• ৪ হাজার টাকা ছাড়াও নবম শ্রেণির পর থেকে ওই কন্যাসন্তানেরা মাসিক ২০০ টাকা করে স্কুলের পড়ার খরচ পাবে। ১২ ক্লাস পর্যন্ত এই সুবিধা মিলবে।
• দু’টো বাচ্চা থাকার পরেও কোনও অভিভাবক যদি কন্যাসন্তানকে দত্তক নেয়, তাহলে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে। তবে, সেক্ষেত্রে স্থানীয় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ওই কন্যাসন্তানের নাম রেজিস্টার থাকা বাধ্যতামূলক আর ওই পরিবারের উপার্জন ট্যাক্স দিতে হয় না এমন সীমারেখার মধ্যে থাকা প্রয়োজন।

লাডলি লক্ষ্মী যোজনায় আবেদন করার শর্ত

• মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা হতে হবে এবং এই প্রকল্প কেবলমাত্র দরিদ্র পরিবারের জন্য প্রযোজ্য যাদের বার্ষিক আয় ট্যাক্স দেওয়ার সীমার মধ্যে আসে না।
• ১৮ বছরের আগে বিয়ে না হলে তবেই এককালীন এক লক্ষ টাকা পাবে কন্যাসন্তান।
• স্কুলছুট হয়ে গেলে এই প্রকল্পের সমস্ত সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে।
• একই পরিবারে সর্বোচ্চ দুই কন্যাসন্তান এই সুবিধা পেতে পারে। তবে কোনও কারণে যমজ কন্যাসন্তান হলে তৃতীয় কন্যাসন্তানকে এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।
• কোনও অনাথ কন্যাসন্তান তখনই এই সুবিধা পাবে যখন তাকে আইনত কেউ দত্তক নেবে।

আবেদন করার জন্য জরুরি কাগজপত্র

• সরকারি বার্থ সার্টিফিকেট।
• অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম।
• রেসিডেন্স প্রুফ মানে বাড়ির ঠিকানার প্রমাণপত্র।
• পাসবুকের ফোটোকপি।
•কন্যাসন্তানের পাসপোর্ট সাইজ ফোটো।
• আধার কার্ড ও রেশন কার্ড।

কী ভাবে আবেদন করতে হবে

• এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হতে চাইলে প্রথমেই ladlilaxmi.mp.gov.in ওয়েবসাইটে যেতে হবে।
• ‘অ্যাপ্লিকেশন লেটার’ অপশনে গিয়ে ক্লিক করতে হবে।
• তিনটে অপশন আসবে- পাবলিক সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট, জেনারেল পাবলিক আর প্রজেক্ট অফিসার।
• ‘জেনারেল পাবলিক’ অপশানে ক্লিক করার পর নির্ভূল ভাবে অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম পূরণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্রে সই করে অ্যাপ্লিকেশন ফর্মের সঙ্গে ‘অ্যাটাচ’ করতে হবে।
• ‘সেভ’ ক্লিক করলে আবেদন প্রক্রিয়ার কাজ শেষ ওয়েবসাইটে।
• মনে রাখতে হবে, প্রজেক্ট অফিসার বা পাবলিক সার্ভিস সেন্টার থেকে কিংবা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর সাহায্য নিয়ে যে কোনও সাইবার ক্যাফে থেকে আবেদন করা যাবে।
• প্রোজেক্ট অফিসারকে দিয়ে প্রামাণ্য কাগজপত্রের অনুমোদন করাতে হবে।
• এই প্রকল্প নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে বা অসুবিধা হলে এই ঠিকানায় যোগাযোগ করা যাবে: Block-II, Habitat  Building 4th Floor, Bhopal-462011. Contact No- 0755-2550917. Fax- 0755-2550917. Helpline: 07879804079.
Email- ladlihelp@gmail.com.