তৃতীয় দফার নির্বাচনের আগেই বেআইনি অর্থলগ্নিকারী সংস্থা সারদা চিটফান্ড-কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়। কুণাল ঘোষ, শতাব্দী রায় এবং দেবযানী মুখোপাধ্যায় -  তিন অভিযুক্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইডি সূত্রে খবর, তিন জনের কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, সারদা থেকে তাঁরা যে পরিমাণ টাকার সুবিধা পেয়েছিলেন, সেই টাকাটাই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মোট ৩ কোটি টাকার মধ্য়ে ২.৬৭ কোটি টাকাই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র তথা রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষের কাছ থেকে। এছাড়া তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের কাছ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা এবং দেবযানী মুখোপাধ্যায়ের কাছ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একসময়, সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেনের মালিকানাধীন একটি টিভি চ্যানেল এবং সংবাদ পত্রের শীর্ষপদে ছিলেন কুণাল ঘোষ। শতাব্দী রায় ছিলেন সারদার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। দুজনেই এই চিট ফান্ড সংস্থার পক্ষ থেকে বড় অঙ্কের টাকা পেতেন।

কয়েকদিন আগেই অবশ্য সারদার থেকে নেওয়া টাকা ইডিকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। মার্চের শুরুতে এই মামলায় তাঁকে জেরা করেছিল ইডি। সেই সময়ই তৃণমূল নেতা সারদা থেকে বেতন এবং বিজ্ঞাপন বাবদ যত টাকা নিয়েছিলেন, তার সবটাই ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। সেই আবেদন মেনে নিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট। টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার পরও কুণাল ঘোষের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হল। এটাকে ভোটের মুখে রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার্থে নেওয়া পদক্ষেপ, এমনটাই মনে করছে তৃণমূল।

বস্তুত, নির্বাচনের মুখে বাংলায় চিটফান্ড মামলার তদন্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির তৎপরতা কিছুটা আকস্মিকই। সারদা, আইকোর সহ বিভিন্ন চিটফান্ড মামলায় প্রভাবশালীদের জেরা করা হচ্ছে। সারদা মামলায় কুণাল ঘোষ ছাড়াও জেরা করা হয়েছে কামারহাটির প্রার্থী মদন মিত্র সহ একাধিক তৃণমূল নেতাকে। আবার আইকোর মামলার তদন্তে কয়েকদিন আগেই সিবিআই তলব করেছিল সবং-এর তৃণমূল প্রার্থী মানস ভুঁইয়াকে।