কয়লাকাণ্ডে রাজ্যের পুলিশ আধিকারিক গ্রেফতর হতেই  বিজেপির নিশানায় এবার 'পিসি-ভাইপো'। রবিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্য়ের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় এবং অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে আক্রমণ করল বিজেপির ৩ শীর্ষ নের্তৃত্ব, অমিত মালব্য-শুভেন্দু অধিকারী এবং দীনেশ ত্রিবেদী। 

 

 

 

আরও পড়ুন, কয়লাপাচার কাণ্ডে পুলিশ আধিকারিককে গ্রেফতার করল ED, ওদিকে লালাকে ফের তলব CBI-র 

 

 

 

 

এদিন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে আসে যে,তৃণমূলে থাকাকালীন কেন এর প্রতিবাদ করলেন না শুভেন্দু-দীনেশ। এই প্রসঙ্গের উত্তরে সাফ জানিয়েছেন শুভেন্দু, যতোদিন অবধি আমদের সঙ্গে দিদি ছিল ততদিন সব ঠিক ছিল। কিন্তু দিদি যেই পিসি হয়ে গেল, তখন কেবল মাত্র ভাইপোকেই দেখে গিয়েছে। ভাইপোকে রক্ষা করে গিয়েছে এবং কীভাবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী করা যায়, সেই পরিকল্পনা নিয়েছে। আমাদের শুধু ল্যাম্পপোস্ট বানিয়ে রেখেছিলেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়।'  এদিন শুভেন্দু আরও বলেছেন, পিসি-ভাইপো কয়লা কেলেঙ্কারিতে সরাসরি জড়িত । ৯০০ কোটি টাকা ভাইপোর কাছে গিয়েছে বলে অভিযোগ এনেছেন শিশির পুত্র। ভাগ্নের সঙ্গে গণেশ বাগাডিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যার বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে ভাগ্নের আরেক সহযোগী বিকাশ মিশ্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ অফিসার এবং আইপিএস অফিসাররা সবাই জড়িত। এই প্রশঙ্গে সহ মত পেশন করেছেন দীনেশ ত্রিবেদীও। পাশাপাশি এদিন খুব ঠান্ডা চোখে দৃঢ় কন্ঠে মমতা ও অভিষেককে নিশানা করে বলেছেন, 'নিজেদের ব্যক্তিগত বিষয়-সম্পত্তি বাড়াতে লুটপাট ও রক্তক্ষরণ করে চলেছে তৃণমূল সরকার। এটা আমাদের সবার জন্য উদ্বেগের কারণ।'

 

 

 

 

আরও পড়ুন, ফের প্রার্থী বদল TMC-র, ওদিকে তৃতীয় দফার আগে ৩ পুলিশ অফিসারকে সরাল কমিশন  

 

 


প্রসঙ্গত, কয়লাপাচার কাণ্ডে এবার ইডির জালে, অশোক মিশ্র নামের বাঁকুড়া থানার ওই আইসিকে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। জানা গিয়েছে, একটি বিতর্কিত অডিও টেপ প্রকাশ্য়ে আসার পরেই অশোক মিশ্রকে নয়াদিল্লি থেকে শনিবার রাত ১১টায় গ্রেফতার করে ইডি। এরপর দিল্লিতে ইডি-র সদর দফতরে আইসি অশোক মিশ্রকে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, রবিবার থাকে আদালতে তোলা হবে। উল্লেখ্য, কয়লাকাণ্ডে এটি দ্বিতীয় গ্রেফতার বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি বিনয় মিশ্রের ঘনিষ্ঠ বলে খবর মিলেছে। অপরদিকে, ফের অনুপ মাঝি ওরফে লালকে তলব করেছে সিবিআই। ৫ এপ্রিল তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। নিজাম প্যালেসে কয়লা পাচার মামলার তদন্তকারী অফিসারের কাছে যেতে বলা হয়েছে। এই দুটো ইস্যুকেও সামনে এনেছেন শুভেন্দু অধিকারী সহ ৩ জনেই। অভিযোগ, তৃণমূলের শিকড়ে অপরাধ লুকিয়ে আছে। কয়লাকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত এই লালাই একসময় তৃণমূলের হয়ে কাজ করত। এবং বিনয় মিশ্র তো তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী, অপরাধ যদি নাই করে থাকেন কেন তিনি আড়ালে থেকেছেন। তবে এদিন প্রশ্ন ওঠার আগেই বলেছেন শুভেন্দু, এমনটা নয় যে, ভোট বলে এভাবে তাঁদেরকে নিশানা করা হচ্ছে। এটা ঘোরতর অপরাধ, তাই এবিষয়ে তদন্ত সক্রিয় ভমিকা পালন করছে ইডি-সিবিআই।