একেবারে রাখঢাকহীন ভাবে দলীয় নেতৃত্বের দিকে আঙুল তুললেন বর্ষিয়ান বিজেপি নেতা তথাগত রায়। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে ২০০-র বেশি আসন জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল বিজেপি। কিন্তু, ফল বের হলে তাদের থামতে হয়েছে ৭৭-এই। এই চরম ভরাডুবির পর, টলি অভিনেত্রীদের দলীয় টিকিট দেওয়ার জন্য তথাগত রায় টুইট করে সরাসরি আঙুল তুললেন নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা দলের শীর্ষনেতাদের দিকে।

এদিন, ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল বাংলায় একটি টুইট করে লেখেন, 'পায়েল শ্রাবন্তী পার্নো ইত্যাদি 'নগরীর নটীরা' নির্বাচনের টাকা নিয়ে কেলি করে বেড়িয়েছেন আর মদন মিত্রর সঙ্গে নৌকাবিলাসে গিয়ে সেলফি তুলেছেন (এবং হেরে ভূত হয়েছেন) তাঁদেরকে টিকিট দিয়েছিল কে ? কেনই বা দিয়েছিল? দিলীপ-কৈলাশ-শিবপ্রকাশ-অরবিন্দ প্রভুরা একটু আলোকপাত করবেন কি?' পরে আরও একটি টুইট করে তিনি লেখেন, 'সংশোধন : মদন মিত্রর সঙ্গে সেলফি তুলেছিলেন পার্নো মিত্র নয়, তনুশ্রী চক্রবর্তী।'

প্রসঙ্গত এই বছর নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীনই ছিল দোল। ওইদিন গঙ্গাবক্ষে একটি লঞ্চে তৃণমূলের রঙিন নেতা তথা অন্যতম প্রার্থী মদন মিত্রের সঙ্গে রঙ খেলায় মাততে দেখা গিয়েছিল তিন টলি অভিনেত্রী তথা বিজেপির-র তারকা প্রার্থী - শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, পায়েল সরকার এবং তনুশ্রী চক্রবর্তীকে। পরাজয়ের পর এদিন, সেই ঘটনার জের টেনেই বর্ষিয়ান বিজেপি নেতা, এদিন বঙ্গ নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা দলের অন্যতম তিন শীর্ষনেতার জবাব চেয়েছেন।

পরে, নিজের  টুইটকে সমর্থন করে তিনি শ্রাবন্তী-পায়েলদের মতো টলি অভিনেত্রীদের রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তথাগত। তাঁর মতে সামান্য রাজনৈতিক বিচক্ষণতা থাকলে, দোলের দিন ওই কাণ্ড তাঁরা করতেন না। কামারহাটি থেকে জয়ী তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্রকে 'প্লে বয়' বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। এতে করে হইচই পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। তথাগত রায়ের এই প্রতিক্রিয়ায় বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব একেবারে প্রকাশে এসে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।

তাঁর মতো বড় নেতা কোনও 'প্রমাণ ছাড়া এইসব কথা কেন বললেন', সেই প্রশ্ন তুলেছেন 'নগরীর নটী' আক্রমণের অন্যতম লক্ষ্য শ্রাবন্তী। আর বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সরাসরি তথাগত রায়কে কোনও জবাব না দিলেও, বলেছেন, তিনি 'পালিয়ে যাওয়ার রাজনীতি' করেন না। তবে সেরা জবাব এসেছে মদন মিত্রর পক্ষ থেকে। তাঁর মতে নৌকো বিহারের সুযোগ পাননি বলেই তথাগতর রাগ হয়েছে। মদন মিত্রের মতে বিশ্বের সেরা প্লেবয় ছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। তিনি সেরা রাজনীতিকও বটে। তাই 'প্লেবয়' উপাধী তাঁর জন্য সম্মানের। আর গঙ্গার সেই নৌকোবিহার মানুষ পছন্দ করেছিল বলেই তিনি জয়ী হয়েছেন। তবে টলি অভিনেত্রীদের 'নগরের নটী' বলে বাংলার মেয়েদেরই অপমান করেছেন বিজেপি নেতা, এমনটাই মত মদন মিত্রর।

প্রসঙ্গত, এইবারের নির্বাচনে পায়েল, শ্রাবন্তী, পার্নো, তনুশ্রী - বিজেপির পক্ষ থেকে প্রার্থী হওয়া টলি অভিনেত্রীদের প্রত্যেকেই পরাজিত হয়েছেন। তবে তথাগত রায়-ও তাঁর রাজনৈতিক জীবনে দুবার নির্বাচনে লড়ে, দুইবারই পরাজিত হয়েছিলেন।