শুক্রবার নন্দীগ্রামে বিজেপির সভা ছিল তৃণমূল কংগ্রেসকে শুভেন্দুর শক্তি প্রমাণের মঞ্চ। রাজনৈতিক মহলের মতে সেই পরীক্ষায় ফুল মার্কস পেয়েই উত্তীর্ণ হয়েছেন বিজেপি নেতা। নন্দীগ্রামের সময় আজ এক লক্ষ লোক হবে একথা আগেই বলেছিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেইমতো সকাল থেকে মেদিনীপুরের মানুষের অলিখিত ঠিকানা হয়ে গিয়েছিল নন্দীগ্রামের স্টেট ব্যাংক সংলগ্ন মাঠ। সভায় জনসমাগতম দেখে 'ঐতিহাসিক' বলেও আখ্যা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়, কৈলাস বিজয়বর্গীয়রা। কিন্তু সভার তাল কাটল কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের বক্তব্য চলাকালীন বিশৃঙ্খলাকে ঘিরে। পরিকল্পিতভাবে সভা ভন্ডুল করার চেষ্টা বা হামলার অভিযোগও করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

সভায় কৈলাস বিজয় বর্গীয় বক্তব্য রাখার সময় অভিযোগ, হঠাৎ প্যান্ডেলের একটি অংশে লাইট নিভে যায়। হঠাৎই বেশ কিছু মানুষ সেখানে ছোটাছুটি শুরু করে দেন। সেই রেশ ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্যদের মধ্যে। কি হয়েছে প্রথমে বুঝতে পারছিলেন না মঞ্চে উপবিষ্ট বিজেপি নেতৃত্ব। বক্তব্য থামিয়ে দেন কৈলাস। তড়িঘড়ি মাইক হাতে নিয়ে সভার রাশ নিজের হাতে নেন শুভেন্দু অধিকারী। বলেন,“বাইরে থেকে ঢিল ছুড়েছে। দু’-এক জন এই কাজ করেছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে। তবে আমরা তাদের চক্রান্ত রুখে দিয়েছি। আমি সিপিএমের আমলেও বিরোধী রাজনীতি করেছি। কিন্তু সিপিএমকে কখনোই তৃণমূলের জনসভায় ঢিল ছুড়তে দেখিনি”। তাঁর কথায়, “সভা চলতে চলতে থেকে ঢিল পড়ছিল, যাতে সভা ভণ্ডুল হয়ে যায়, আপনারা চলে যান। সভা শেষ হওয়ার পরেও আমি এক ঘণ্টা এখানে থাকব। আপনারা ধীরে ধীরে বাড়ি চলে যান। তার পরে আমি যাব”।

সভায় তএমন বিশৃঙ্খলার ঘটনা অনভিপ্রেত বলে জানিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। ঘটনার পেছনে শাসক দল তৃণমূল কমগ্রেসকেও দায়ী করা হয়েছে। তৃণমূলের মদতেই এই হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সভার শেষে এদিন একবারে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন,'৭ জানুয়ারি নন্দীগ্রামে সভা করার কথা ছিল তৃণমূলের। সেই সভা হয়নি। আগামী ১৮ তারিখ তারা সভা করবে বলে জানিয়েছে। আগামী ১৯ তারিখ খেজুরিতে আমাদের পালটা সভা হবে। ১৮ তারিখের উত্তর ওই দিন দেব।' ফলে সায়মিক উত্তেজনার পর শান্তিতেই শেষ হয় বিজেপির সভার কাজ।