শুভেন্দু ঘাসফুল ছেড়ে পদ্ম ধরার পর থেকেই দুই শিবিরের মধ্যে চলছে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে মিলিয়ে ৩৫ টি বিধানসভা আসনেই পদ্ম ফোটানোর হুঙ্কার ছেড়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নাম না ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমণ করছেন তিনি। অবিভিক্ত মেদিনীপুরের সব জায়গায় মিটিং, ব়্যালি করে নিজের শক্তিরও পরিচয় দিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবারও নন্দীগ্রামে বিশাল সমাবেশ করেছে বিজেপি।

বসে নেই তৃণমূল কংগ্রেসও। শুভেন্দুর পাল্টা মিটিং-মিছিল করছে শাসক দলও। শুভেন্দুর বিরুদ্ধে আক্রমণের রাস্তাতেই হাঁটছে তৃণমূল কংগ্রেসও। ইতিমধ্যেই শুভেন্দুর নামের সঙ্গে 'বিশ্বাস ঘাতক' বা 'মীরজাফর' তকমা সেঁটে দিয়েছেন ববি হাকিং, সৌগত রায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা। কিন্তু এবার শুভেন্দুকে আক্রমণ করত গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন তৃণমূল নেতা অজিত মাইতি। কিছুদিন আগেই স্ববংয়ে সভা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। স্ববংয়েই তার পাল্টা সভা মঞ্চ থেকে শুভেন্দুর মাথা মুড়িয়ে, ঘোল ঢেলে, মাটিতে পুঁতে দেওয়া নিদান দিলেন অজিত মাইতি।  তিনি বলেন,দল পরিবর্তন করায় মানুষের ঘৃণা বালো লাগছে তো? তুমি মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র না, তুমি বিশ্বাসঘাতক, মীরজাফর পুত্র, মানুষ তোমাকে ঘৃণা করে। আমি বলব শুভেন্দু অধিকারীর মাথা মুড়িয়ে, ঘোল ঢেলে, মাটিতে পুঁতে দেওয়া হোক'।

তৃণমূল নেতার এহেন বক্তব্যের পরই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, মাটি পুঁতে দেওয়ার হুমকি মানে কার্যত 'খুনের হুঁশিয়ারী' দেওয়া। অজিত মাইতির এমন কদর্য ভাষায় আক্রমণকে ঘিরে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। বিষয়টি ভালোভাবে নিচ্ছে না স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বও। তৃণমূল নেতাকে তীব্র ধিক্কার জানিয়েছে বিজেপি। প্রয়োজনে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে আইনি ব্যাবস্থা নেওয়ার কথাও বাবা হচ্ছে পদ্ম শিবিরের পক্ষ থেকে।