সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামের পর নেতাই। ফের রাজ্য রাজনীতির শিরোনামে বাম শাসনের অবসানের তিন অন্যতম প্রধান কারণ। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে ফের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এই তিন জায়গা। বৃহস্পতিবার নেতাই দিবস উপলক্ষ্যে গৌণ হয়ে রইল শহিদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। তার পরিবর্তে শিরোনামে উঠে আসল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি নেতৃত্বের আক্রমণ-প্রতি আক্রমণের লড়াই। সৌজন্যে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ও তৃণমূল নেতা মদন মিত্র।

১০ বছর আগে এই দিনেই অভিযোগ ওঠে সিপিএমের মজুত করা অস্ত্র ভাণ্ডার থেকে সিপিএম আশ্রিত দুষ্কৃতীদের গুলি চালায়। তাতে ৯ জন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়। অসেই উপলক্ষে প্রতিবছর এই দিনটিতে নেতাই গিয়ে শহীদ পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রতিবছর শুভেন্দু অধিকারী নেতাই গিয়ে শহিদ বেদিতে মালা দিয়ে থাকেন। তবে এই প্রথম বিজেপি নেতা হিসেবে তিনি নেতাইতে গিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন বৃহস্পতিবার সকালে। সেখান থেকে তার প্রাক্তন দলের বিরুদ্ধে তোপও দাগেন বিজেপি নেতা। শহিদ দিবসে কেনও গ্রাম তৃণমূলের পতাকা দিয়ে মোড়া তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি এতদিন কেনও শাসক দলের নেতাইয়ের কথা মনে পড়েনি তা নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনে নেতাইবাসীকে যোগ্য জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান শুভেন্দু।

চুপ থাকেনি শাসক দলও। নেতাই শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন মদন মিত্র। জনসভায় শুধু শুভেন্দু নয় অধিকারীর পরিবারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মদন। কার্যত পেটাইয়ের নিদান দেন তিনি। মদন মিত্র বলেন,'নেতাই থেকে পেটাই শুরু হবে। দল যদি আমাকে অনুমতি দেয় তাহলে আমি নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ভোটে লড়তে রাজি আছি। নতুন দলে গেছে তো, তাই ঠোকরাতে শিখেছে। বলছে বাংলা দখল করবে। একটা কথা শুনে রাখো, দুধ চাহেঙ্গে তো ক্ষীর দেঙ্গে। লেকিং বাংলা চাও তো, চির দেঙ্গে।' দল অনুমতি দিলে নেতাই তথা ঝাড়গ্রামে থেকে দলের আন্দোলনকে নেতৃত্ব দেব বলেও জানান মদন মিত্র।

নেতাই শহিদ বেদীতে মাল্য দানে করে, তা গঙ্গা জল দিয়েও ধুইয়ে দেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূল নেতৃত্ব বলেন, শুভেন্দু অধিকারী শহিদ বেদীতে মাল্য দান করে তা অপবিত্র করেছে। গঙ্গা জল দিয়ে ধুইয়ে তা পবিত্র করা হল। অধিকারীর পরিবারের উদ্দেশ্যে মদন মিত্র বলেন,'অধিকারী পরিবার শুনে রাখো, আমাদের যাত্রা শুরু হল। এবার শুধু খেলব না, কোচিংও করাব। এমন কোচিং করাব, শুভেন্দু টের পেয়ে যাবে। তুমি রাজ্যের মন্ত্রী ছিলে। অথচ ২০১৪ সাল থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে অমিত শাহের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলে। তোমার মতো বেইমানকে মানুষ জবাব দিয়ে দেবে।' নেতাই থেকে যে সুর চড়ালেন মদন মিত্র, তা নির্বাচনের উত্তাপকে আরও বাড়ালো বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।