আর কোনও জল্পনা নয়। প্রার্থী বদলে নারাজ দল। তাই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসাবেই শিলিগুড়ি কেন্দ্র থেকে লড়াই করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিলেন শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান নান্টু পাল। তৃণমূলের উচ্চতর নেতৃত্বকেও তাঁর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন শিলিগুড়ির এই বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা।

গত শুক্রবার, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২১-এর জন্য ২৯১টি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তারপর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন দলের বিভিন্ন নেতারা। শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে ঘাসফুল প্রতীক পেয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্র। আর তারপর থেকেই এই কেন্দ্রের তৃনমূল নেতা-কর্মীদের একাংশের মধ্যে প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁরা চান ভূমিপুত্র।

সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ দেখা গিয়েছিল শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান নান্টু পাল-এর মধ্যে৷ সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও রকম রাখ ঢাক না রেখেই প্রার্থীর বিষয়ে অসন্তোষ জানিয়েছিলেন। রবিবার, শিলিগুড়ির মৈনাক টুরিস্ট লজে তাঁর ক্ষোভ প্রশমনে নান্টু পালকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন তৃণমূলের উচ্চ নেতৃত্বরা। উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গের পর্যবেক্ষক এবং দার্জিলিং জেলা তৃণমূলের সভাপতি সহ অনেকেই।

বৈঠকের পর নান্টু পাল এশিয়ানেটট নিউজ বাংলাকে জানিয়েছেন, প্রার্থীকে মেনে না নেওয়ার যথেষ্ট কারণ তিনি নেতৃত্বকে জানিয়েছেন, কিন্তু, তাতে লাভ হয়নি। এই অবস্থায় তিনি নির্দল প্রার্থী হয়ে ওই কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়াই করবেন বলেও নেতৃত্বকে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। প্রার্থী ঘোষণার দিনই তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ওম প্রকাশ মিশ্রকে টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করতে দেখা যেত। সেই সব কথা ভুলে তিনি ওমপ্রকাশের হয়ে প্রচারে নামার কথা ভাবতে পারেছেন না। 'ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হবে', বলেও জানিয়েছিলেন। এবার নিজের দলের বিরুদ্ধেই লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।