২০২১ এর দোরগড়ায় দাঁড়িয়ে একেরপর এক তোপে নড়ে উঠেছে তৃণমূল। যদিও রাজ্য়ের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বিতর্কিত চিঠি দিয়ে দিব্য়ি আত্মবিশ্বাসী আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি। শুধু 'দিদি' কিছু বললেই মেনে নেবেন। 'আর বাকিদের কথায় যায় আসে না', বলতে ফিরহাদকে একহাত নিয়েছেন জিতেন্দ্র। এদিকে মঙ্গলবারেই কলকাতায় জিতেন্দ্রর জরুরী তলব পড়েছে দলের তরফে। তবে তিনি আসবেন কিনা, এনিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

এত টাকা গেল কোথায়
 

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা কি কারণে আসানসোল মিউনিসিপ্যালিটি কর্পোরেশনকে দেওয়া হচ্ছে না, তাই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি। রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে চিঠি পাঠিয়ে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা দ্রুত দেওয়ার আবেদন করেছেন তিনি। স্মার্ট সিটি প্রকল্পের ২০০০ কোটি টাকা বাকি আছে বলে দাবি করেন জিতেন্দ্র। একই সঙ্গে তিনি জানান, 'এই প্রকল্পের টাকা না আসার কারণে আসানসোলের স্মার্ট সিটি প্রকল্পের কাজ থমকে যাচ্ছে। কেবল তাই নয়, কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশন প্রকল্পে কেন্দ্রের ১,৫০০ কোটি টাকা আটকে রয়েছে', বলে ফিরহাদ হাকিমকে চিঠিতে জানান জিতেন্দ্র তিওয়ারি।

'ফিরহাদ তাহলে পাকিস্থানের ইরফান খানের কথা শুনে চলে, এমনই তো বলতে হয়'


ওদিকে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ফিরহাদ।  এই সকল প্রকল্পে রাজ্যকেও কিছু শতাংশ টাকা দিতে হয়। ওসব ভাওতা বাজি, ওরকম অনেক প্রস্তাবই দেয়, বলে আর টাকা দেয়নি কেন্দ্র। জিতেন্দ্র আমায় এতদিন কিছু বলেনি। আচমকা চিঠি দিল, এগুলি একদমই পছন্দ করি না। ওকে কেউ গ্যাস দিয়েছে। পাশপাশি, জিতেন্দ্র ক্ষেপে লাল ততক্ষণে। পার্টীর গাড়িতে যাওয়ার সময় মুখ বাড়িয়ে বলেন, ফিরহাদ তাহলে পাকিস্থানের ইরফান খানের কথা শুনে চলে, এমনই তো বলতে হয়। এবিষয়ে শুধু দিদি কিছু বললেই মেনে নেব। আর বাকিদের শুনে কাজ নেই। এদিকে অভিযোগ উঠলেই, আগুন নেভাতে ছোট ভাই সম্বোধন করলেন এবারেও। রাজীব নরম হলেও মোটে এতে গলেননি জিতেন্দ্র। আর তারপরেই বেগতিক দেখে, ফিরহাদ বলেন,' দিদি তো বলেই দিয়েছেন, দরজা খোলা আছে। চাইলেই বেরোতে পারে।'উল্লেখ্য, যদিও যে চিঠি নিয়ে এতো বিতর্ক সেই চিঠি প্রকাশ্য়ে আসুক চাননি জিতেন্দ্র।

ছয় মারলেন বাবুল-দিলীপ

আর এমনই সময় আসানসোল পেরিয়ে ছয় মারলেন বিজেপি নেতা-মন্ত্রী। একদিকে যেমন দিলীপ রায় বলেছেন, 'এতদিন কোথায় ছিলেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। একুশের নির্বাচনের দোরগড়ায় এসে এখন গিয়ে অভিযোগ তুললেন। ঠিক আছে যাই হোক শেষ অবধি বলেছেন, এজন্য স্বাগত জানাচ্ছি।'অপরদিকে বাবুল সুপ্রিয়ও বলেন যে,' সত্যিই আসানসোলের উন্নয়ন হচ্ছে না। কেন্দ্রের টাকা নয়ছয় করে হাফিস করা হচ্ছে। অভিযোগ তো উঠবেই।' এহেন জিতেন্দ্র-ফিরহাদের বিতর্কের আগুনে যে খাঁটি দেশী ঘির কাজ করছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি, এনিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। এখনই তো প্রকৃত সময় ঘোলা জলে মাছ ধরার, চাপান উতোর রাজনৈতিক মহলে।