ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। শুরু হয়ে গিয়েছে প্রচার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি ফের ফিরবেন মসনদে, নাকি গদি উলটে দেবে বিজেপি। ডার্ক হর্স হয়ে উঠবে কি বাম-কং জোট? ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েচে পাড়ার চায়ের দোকানে চর্চা। আর সেইসঙ্গে শুরু হয়ে গিয়েছে জনতা জনার্দনের মনের হদিশ পাওয়ার প্রচেষ্টাও। সোমবার, ভোট সমীক্ষক সংস্থা সি ভোটার-এর করা জনমত সমীক্ষার ফল প্রকাশ করা হল। দেখে নেওয়া যাক, এখনি ভোট হলে কাদের সমর্থন করবেন বাংলার মানুষ।

গত ৬ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারির মধ্যে রাজ্যের ২৯৪টি আসন থেকেই ১৮ হাজার জনের মধ্যে এই সমীক্ষা চালিয়েছে সি ভোটার। আর তাতে ইঙ্গিত মিলেছে, শক্তি কিছুটা কমলেও ফের ক্ষমতায় ফিরবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসই। এই সমীক্ষা অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ১৫৪ থেকে ১৬২টি আসন। অন্যদিকে বিজেপির শক্তি অনেকটাই বাড়লেও বাংলায় ক্ষমতা দখল এবারও হবে না। সি ভোটার-এর সমীক্ষা বলছে গেরুয়া শিবিরে আসবে ৯৮ থেকে ১০৬ টি আসন। আর বাম ও কংগ্রেস জোট আটকে যাবে ২৬ থেকে ৩৪টি আসনেই। অন্যান্যরা ঝুলিতে যাবে মাত্র ২ থেকে ৬টি আসন।

মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবেও অনেক এগিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমীক্ষায অংশ নেওয়া ৪৯ শতাংশই বলেছেন মমতাকেই তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের যোগ্যতম মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী বলে মনে করেন। তাঁর থেকে অনেক পিছনে রয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মাত্র ১৯ শতাংশ মনুষ তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে চেয়েছেন। আর তাঁর পরে এই তালিকায় রয়েছে এটি বিস্ময়কর নাম, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। দাদাকে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী দেখতে চান সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মাত্র ১৩ শতাংশ। এছাড়া এই প্রশ্নে মুকুল রায়-কে সমর্থন করেছেন ৭ শতাংশ, সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীকে ৪ শতাংশ এবং অধীর চৌধুরী-কে ৩ শতাংশ।

সৌরভের থেকে মুখ্যমনত্রী পদে দিলীপ ঘোষকে বেশি সংখ্যক মানুষ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে চাইলেও, প্রাক্তন ভারত অধিনায়ককে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে সামনে রেখে লড়লে গেরুয়া শিবির বেশি সাফল্য পাবে বলে মনে করেছেন অনেক বেশি মানুষ। ৩৪ শতাংশ মানুষ বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী চেয়েছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কেয। আর ১৫ শতাংশ এই ক্ষেত্রে আস্থা রেখেছেন দিলীপ ঘোষ-এর উপর। মাত্র ১২ শতাংশ বলেছেন বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করুক সদ্য তৃণমূল থেকে বিজেপি-তে আসা নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। আর এঁদের কাউকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে সামনে রেখে লড়লে বিজেপি সাফল্য পাবে না, এমনটা জানিয়েছেন ৩৯ শতাংশ মানুষ।

তবে এই সবটাই এখনকার সংগৃহিত তথ্যের ভিত্তিতে করা হিসাব। আগামনী কয়েক মাসে প্রচার পর্বে জোর এলে হাওয়া যে কোনও দিকেই ঘুরে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে সমীক্ষক সংস্থাটি।