প্রায় একইসঙ্গে স্টেশনে ঢুকেছে দুটি ট্রেন। ঘোষণাও একেবারে শেষ মুহুর্তে হয়েছে বলে অভিযোগ। প্ল্যাটফর্মে চরম বিশৃঙ্খলা। ওভারব্রিজ ব্যবহার করতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে গুরুতর জখম দুই শিশু-সহ ১২ যাত্রী। শুক্রবার বিকেলে দুর্ঘটনা ঘটল বর্ধমান স্টেশনে।

হাওড়া ডিভিশনের অন্য়তম গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন বর্ধমান। এটি জংশন স্টেশনও বটে। হাওড়া মেন ও কড লাইনই শুধু নয়, বর্ধমান থেকে একাধিক রুটে দূরপাল্লা ও লোকাল ট্রেন চলে। ফলে স্টেশনে সবসময়ই যাত্রীদের ভিড়ও লেগেই থাকে।  নিত্যযাত্রীদের জানিয়েছেন, বর্ধমান স্টেশনের ৪ ও ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের মাঝে একটি মাত্রই সিঁড়ি বা ওভারব্রিজ রয়েছে।  স্টেশনে আরও একটি ওভারব্রিজ আছে বটে। তবে সেটি এখন বন্ধ।  ফলে যাত্রীদের যখন ওই সিঁড়ি বা ওভারব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করেন, তখন ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।  বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটল শুক্রবার বিকেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন,  শুক্রবার বিকেল চারটে নাগাদ বর্ধমান স্টেশনের  ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে পুরুলিয়া লোকালের ছাড়ার কথা ছিল। এদিকে আবার প্রায় একইসময়ে ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসে পৌঁছয় ডাউন পূর্বা এক্সপ্রেস। পূর্বা এক্সপ্রেসে যাত্রীরা যখন প্ল্যাটফর্মে নেমে ওভারব্রিজ দিয়ে উপরে উঠছেন, তখন পুরুলিয়া লোকালের যাত্রীরাও দ্রুত পায়ে ট্রেন ধরার জন্য নিচে নামছিলেন। দু'দিকেই থেকে যাত্রীদের ভিড়ে অবরুদ্ধ হয়ে যায় বর্ধমান স্টেশনের ওভারব্রিজ।  কেউ-ই ওঠানামা করতে পারছিলেন না। ভিড়ের চাপে বেশ কয়েকজন হুড়মুড়িয়ে ওভারব্রিজের উপর পড়ে যান।  তাঁদের উপর দিয়ে চলে যেতে থাকেন অন্য যাত্রীরা। অনেকেই আবার ওভারব্রিজের রেলিং টপকে প্ল্যাটফর্মে নামার চেষ্টাও করেন। ধাক্কাধাক্কিতে পদপিষ্ট হয়ে আহত হন ১২ যাত্রী।  আহতদের উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যায় আরপিএফ।  ঘটনার পর বর্ধমান স্টেশনে মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিশ।

এর আগে হাওড়ার সাঁতরাগাছি স্টেশনে ফুটব্রিজেও হুড়োহুড়ির কারণে যাত্রীদের পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেবারও রেলের বিরুদ্ধেই গাফিলতির অভিযোগ ওঠেছিল। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল বর্ধমান স্টেশনে।