গত মাসে পূর্ব লাদাখের ভারত-চীন সীমান্তের কাছে গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় সেনাদের গোলা বন্দুক ছাড়া প্রায় খালি হাতে লড়তে হয়েছিল চিন সেনার পেরেক বিধানো লাঠি ও কাঁটাতার জড়ানো বেসবল ব্যাট দিয়ে হামলার বিরুদ্ধে। এবার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলায় ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে প্রায় একই রকমের মধ্যযুগীয় হামলার মুখে পড়তে হল ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর বা বিএসএফ-এর জওয়ানদের। তফাতের মধ্যে এই ক্ষেত্রে উল্টো দিকে বাংলাদেশি সেনা সদস্য নয়, ছিল মাদক পাচারকারীরা।

বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে গত ৩ ও ৪ জুলাইয়ের মাঝের রাতে। নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় বিএসএফের বাঁশঘাটা চৌকির কাছেই এক জায়গায়, ১০৭ তম ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা ঘাপটি মেরে অপেক্ষা করছিলেন। ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ ১০-১২ জন বাংলাদেশি পাচারকারীদের একটি দল সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়ে। আর তারপরই ঘাপটি মেরে থাকা বিএসএফ সদস্যরা তাদের ঘিরে ফেলে।

কোনঠাসা হতেই মরিয়া হয়ে ওঠে মাদক চোরাচালানকারীদের দলটা। বিএসএফের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আচমকাই তারা বাঁশ এবং ধারালো দা-এর মতো অস্ত্র দিয়ে বিএসএফ জওয়ানদের উপর নির্মম হামলা চালায়। আত্মরক্ষার জন্য জওয়ানরা অ-প্রাণঘাতী পাম্প অ্যাকশন গান থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালিয়েছিলেন। তারমধ্যেই বিএসএফ-এর হাত গলে ওই বাংলাদেশি দুর্বৃত্তরা সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে যায়।

এই হামলায় তিন বিএসএফ সদস্য গুরুতর আহত হন। জওয়ানদের দাবি, তাদের গুলিতে বাংলাদেশী চোরাচালানকারীদের মধ্যে অন্তত দু'জন আহত হয়েছে। তারা পালিয়ে যেতে পারলেও তাদের পাচারের পণ্য সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেনি। বিএসএফ-এর এক কর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আট কেজি গাঁজা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।