West Bengal SIR: সোমবার রাতে অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকায় বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের একটি বুথেরই ৩৪০ জন ভোটারের নাম বাদ পড়ে যাওয়ায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই ভোটাররা সকলেই বড় গোবরা গ্রামের ৫ নম্বর বুথের বাসিন্দা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। 

West Bengal SIR: সোমবার রাতে অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকায় বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের একটি বুথেরই ৩৪০ জন ভোটারের নাম বাদ পড়ে যাওয়ায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই ভোটাররা সকলেই বড় গোবরা গ্রামের ৫ নম্বর বুথের বাসিন্দা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। খসড়া তালিকায় তাঁদের নাম প্রথমে 'বিচারাধীন' (Under Adjudication) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু সোমবার সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁদের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন জানা যায় যে, বাদ পড়া ভোটারদের তালিকায় খোদ ওই বুথের 'বুথ লেভেল অফিসার' (BLO) মহম্মদ শফিউল আলমের নামও রয়েছে। গণহারে ভোটারদের নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ওই অফিসারের বাড়ি এবং স্থানীয় রাস্তায় বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সুপরিকল্পিতভাবে তাঁদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ক্ষতিগ্রস্ত ভোটার এবং স্থানীয় আধিকারিকরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ তুলে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। আলম জানান, সমস্যার সমাধানের জন্য তিনি বসিরহাট ব্লক-২-এর ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের (BDO) সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, এ বিষয়ে আর কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, ERO র সঙ্গে কোনওভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত ভোটারদের অন্যতম কাজিরুল মণ্ডল জানান, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ১১টি বৈধ নথির মধ্যে যে কোনও একটি জমা দিলেই চলে। অথচ তাঁদের অনেকেই তিন থেকে চারটি নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দলের স্বার্থ চরিতার্থ করতে এবং তাঁদের দাবি মেটাতে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আলম ঘোষণা করেছেন যে, আইনি প্রতিকার পাওয়ার লক্ষ্যে তিনি এই বিষয়টি নিয়ে একটি ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হবেন।

এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বসিরহাট ব্লক-২-এর অন্তর্গত বেগমপুর বিবিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর বুথ, যেখানে মোট ভোটারের সংখ্যা ৯৯২। এই ভোটারদের মধ্যে ৩৮ জনের নাম মৃত্যু কিংবা স্থানান্তরের কারণে নিয়মমাফিক তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলেও, বাকি ৩৫৮ জন ভোটারকে তাঁদের ভোটাধিকারের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য শুনানিতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যদিও খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় এই ৩৫৮টি মামলার মধ্যে ১৮টির নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছিল, তবুও অবশিষ্ট ৩৪০টি নাম 'বিচারাধীন' অবস্থাতেই রাখা হয়েছিল। গত ২৩ তারিখে তালিকাটি প্রকাশিত হওয়ার পর এই ৩৪০ জন ভোটারের নামই তালিকা থেকে 'বাদ পড়া' (deleted) বা মুছে ফেলা হয়েছে—এমন শ্রেণিতে স্থানান্তরিত করা হয়। আলম জানান, তিনি নিজে দাঁড়িয়ে এই ভোটারদের ফর্ম পূরণে সহায়তা করেছিলেন এবং নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র যথাযথভাবে আপলোড করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেছিলেন। তা সত্ত্বেও সুপরিকল্পিতভাবে তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।