গত কয়েকদিন ধরে ভ্যাপসা গরম চলছিল। সোমবার বিকালে সেই ভ্যাপসা ভাব কাটিয়ে ঝড়-বৃষ্টি হবে, তার পূর্বাভাস আগেই দিয়েছিল আবহাওয়া দফতর। কিন্তু, তারা যেটা জানাতে পারেনি, তা হল ঝড়-বৃষ্টির পরও গুমোট ভাব কাটবে না মুর্শিদাবাদের জঙ্গীপুর মহকুমার অন্তর্গত মির্জাপুর গ্রামে। কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে গোটা গ্রামের বাতাস। আসলে এদিনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়, গ্রামবাসীদের চোখের সামনে পরপর কেড়ে নিয়েছে ছয়-ছয়টি তাজা প্রাণ। তার ধাক্কা তাঁরা এখনও সামলে উঠতে পারছেন না।

সাইনুল ইসলাম (২২), সুনীল মাল (৪০), বুদ্ধ দাস(৩০), খানদান শেখ (৩০), সূর্য কর্মকার (২২) ও মিরাজুল শেখ (২০) - এঁদের কেউ কাজ করছিলেন চাষের জমিতে, আবার কেউ কেউ আম বাগানে গিয়েছিলেন ঝোড়ো বাতাসে পড়ে যাওয়া আম কুড়াবেন বলে। ৬ জনের কারোরই জীবিত অবস্থায় বাড়ি ফেরা হয়নি। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস মতোই, এদিন দুপুর গড়াতে না গড়াতেই ঘন কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছিল আকাশ। বিকেলেই যেন নেমে এসেছিল সন্ধে। শুরু হয় ঝোড়ো হাওয়ার দাপট। আর একটু পর থেকেই শুরু হয় ব্যাপক বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি। ফলে জমিতে কাজ করছিলেন যাঁরা, যাঁরা বাগানে আম কুড়াতে গিয়েছিলেন, প্রত্যেকেই আটকে পড়েন।

বিকেল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতাও বাড়ে। সেইসঙ্গে শুরু হয় ব্যাপক হারে বজ্রপাত। এরপরই শিহরণ জাগানো ঘটনা। একই এলাকায় দফায় দফায় বাজ পড়তে থাকে। এক এক করে মৃত্যুর কোলে ছলে পড়েন ওই ছয়জন যুবক, যাঁদের পরিচয় আগেই দেওয়া হয়েছে। শুধু ওই ৬ জনই ভয়াবহ বজ্রপাতে গুরুতর জখম হয়েছে আরও অন্তত ১৫ জন, এমনটাই জানা গিয়েছে এলাকাবাসীদের কাছ থেকে। এরা হলেন, মুকুল শেখ, রমজান শেখ, সুমন শেখ ,আকাশ শেখদের গুরুতর জখম অবস্থায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে জঙ্গিপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন তাঁরা।

চোখের সামনে প্রিয়জনদের এক এক করে মরতে দেখে শোকে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে গোটা মির্জাপুর গ্রাম। এরকমভাবে বাজ পড়তে পারে, তা বিশ্বাসই করতে পারছেন না আকবর আলি, মিন্টু শেখরা। তাঁরা জানিয়েছেন, চোখের সামনে এমন ভয়াবহ মৃত্যু কোনওদিন যে দেখতে হবে তা তাঁরা দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি। মুহুর্তের মধ্যে চোখের সামনে এভাবে ছয়টি তরতাজা প্রাণ চলে যেতে পারে, তা এখনও গ্রামবাসীদের বিশ্বাস হচ্ছে না।

মুর্শিদাবাদের পাশাপাশি হুগলি এবং পশ্চিম মেদিনীপুরেও বর্জপাতে বেশ কয়েকজনের হতাহতের খবর পাওয়া গিয়েছে। রবিবারও রাজ্যে ৪ জবনের মৃত্যু হয়েছিল বজ্রপাতে। প্রত্যেকেই পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা ছিলেন।