আশঙ্কা ছিলই, করোনা আতঙ্কে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েছিলেন তিনি। পুলিশের সাহায্য নিয়ে ঢুকতে হয়েছিল বাড়িতে। এবার সংক্রমিত হলেন হুগলির গোঘাট ১ ব্লকের  বিডিও সুরশ্রী পাল। জেলায় নতুন করে করোনা ধরা পড়েছে আরও ২৯ জনের।

আরও পড়ুন: বাংলোয় ঢুকে পড়েছে করোনাভাইরাস, হোম কোয়ারেন্টাইনে চলে গেলেন জেলাশাসক

প্রশাসনিক আধিকারিক হোন কিংবা পুলিশকর্তা, এমনকী জনপ্রতিনিধিরাও, করোনা সংক্রমণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না কেউই। যতদিন দিন যাচ্ছে, লাফিয়ে লাফিয়ে আক্রান্তের সংখ্য়া বাড়ছে রাজ্যের সর্বত্রই।  হুগলির গোঘাট ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির বেশ কয়েকজন সদস্যও করোনায় আক্রান্ত। বিডিও সুরশ্রী পাল কিন্তু তখনও সুস্থই ছিলেন। কিন্তু ঘটনা হল, ঘর আলাদা হলেও পঞ্চায়েত সমিতির অফিসেই বসতেন তিনি। ব্যস আর যায় কোথায়! করোনা আতঙ্কে খোদ বিডিও-কেই ভাড়াবাড়িতে ঢুকতে দিতে রাজি ছিলেন না বাড়িওয়ালা ও তাঁর স্ত্রী।

আরামবাগ শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে এক সরকারি আধিকারিকের বাড়িতে ভাড়া থাকেন গোঘাট ১ নম্বর ব্লকের বিডিও সুরশ্রী পাল। বাড়িওয়ালার স্ত্রী আবার পেশায় শিক্ষিকা।  রবিবার যখন মেয়েকে নিয়ে  ফেরেন, তখন বিডিও-কে বাড়িওয়ালা ও স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ি ঢুকতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ। বাড়িওয়ালা সাফ জানিয়ে দেন, লালারস পরীক্ষা করিয়ে যতক্ষণ পর্যন্ত নিজেকে করোনামুক্ত বলে প্রমাণ করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত বিডিও ও তাঁর পরিবারের লোককে বাড়িতে থাকতে দেবেন না। ঘটনার জেরে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। শেষপর্যন্ত বিডিও সুরশ্রী পাল ও তাঁর মেয়েকে একপ্রকাশ জোর করেই বাড়িতে ঢুকিয়ে দেয় পুলিশ। বিডিও-কে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বাড়ির মালিক ও তাঁর স্ত্রী-সহ  আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ফের দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়াল, রাজ্যে মোট আক্রান্ত ৫৪ হাজারের দোড়গোড়ায়

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, বিডিও-র লালারস সংগ্রহ করে মঙ্গলবার পরীক্ষার জন্য নাইসেডে পাঠানো হয়। বুধবার পজিটিভি রিপোর্ট আসে তাঁরা। আরামবাগ শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে যে এলাকা বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকেন বিডিও, সেই এলাকাটি স্যানিটাউজ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।