সমুদ্র মাছ ধরতে গিয়ে ফেরার পথে উল্টে গেল ইলিশ ভর্তি ট্রলার। খারাপ আবহাওয়ার কারণে উত্তাল ছিল সমুদ্র। সমুদ্রের বিশাল জলোচ্ছ্বাস আটকানোর মতো ক্ষমতা ছিল না প্রসেনজিত নামে ট্রলারটির। বিশাল ঢেউ-এর ধাক্কায় ট্রলার টাল সামলাতে পারেনি। ফলে উল্টে যায়। ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে তার খুব কাছেই জম্বুদ্বীপ। এই ট্রলার দুর্ঘটনায় এখনও তিন জন মৎস্যজীবী নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। 

ট্রলারে থাকা ১৫ জন মত্সজীবীর মধ্য়ে ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ মত্সজীবীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে আরও পাঁচটি ট্রলার এবং উপকূলরক্ষী বাহিনী। মাঝ সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে বারবার দুর্ঘটনার মুখোমুখি হন মৎস্য়জীবীরা। খারাপ আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে প্রবল জলোচ্ছ্বাসের কারণে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ট্রলারগুলি। বিপদের সময় সংশ্লিষ্ট জায়গায় সঙ্কেত পাঠানো সম্ভব হয়ে ওঠে না। এই পরিস্থিতিতে এবার থেকে মৎস্য়জীবীজদের দিশা দেখানোর উদ্য়োগ নিল উপকূলরক্ষী বাহিনী। মৌসম ভবন থেকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য় মত্সজীবীদের পাঠাবে উপকূলরক্ষী বাহিনীর বিশেষ জাহাজ। মাঝ সমুদ্রে বাতাসের গতিবেগ কোন দিকে? সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস প্রতিরোধ করতে মৎজীবীদের কী করণীয়? এই রকম বহু তথ্য় মত্সজীবীদের কাছ থেকে সরাসরি পেয়ে যাবে উপকূলরক্ষী বাহিনী। উপকূলরক্ষী বাহিনীর পরামর্শ মতো নিজেদের সুরক্ষায় মাঝ সমুদ্রে নিজেদের বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারবেন মত্সজীবীরা।

প্রশাসন সূত্রে খবর, দিন পাঁচেক আগে কাকদ্বীপ বন্দর থেকে ১৫ জন মত্সজীবীদের দলটি  এফভি প্রসেনজিত নামে ট্রলারে চেপে সমুদ্রে মাঝ ধরতে গিয়েছিল। শনিবার খারাপ আবহাওয়ায় সঙ্কেত পেয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করেছিল এফভি প্রসেনজিত নামে ওই ট্রলারটি। এই ট্রলার দুর্ঘটনায় যাঁরা নিখোঁজ, তাঁরা হলেন, বছর আটচল্লিশের কৃষ্ণ দাস , বাড়ি  শিবকা‌লিনগর, কাকদ্বীপ। প‌্রদ্বীপ বিশ্বাস, বয়স তিরিশ, বাড়ি প‌শ্চিম গঙ্গাধরপুর, কাকদ্বীপ। শিবু বিশ্বাস, বয়স পঞ্চান্ন, বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার মধ‌্যমগ্রাম। রবিবার সকাল থেকে নিখোঁজ ৩ জন মত্সজীবীর খোঁজে তল্লাশি শুরু করে উপকূলরক্ষী বাহিনী। পাশাপাশি, মৎস্য়জীবীদের আরও ৫টি ট্রলার তল্লাশি অভিযান শুরু করে। নিখোঁজদের মধ্য়ে এক জন মত্সজীবীর দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশের তরফে পরে জানানো হয়েছে। বাকি দুজনের খোঁজে তল্লাশি জারি রেখেছে উপকূলরক্ষী বাহিনী।