আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করতে পারে ভারতের নির্বাচন কমিশন। যে কোনও রাজ্যে লোকসভা ভোট হোক বিধানসভা ভোট হোক, প্রচুর পরিমাণে বাস অধিগ্রহণ করা হয়। ভোটকর্মীদের নিয়ে যাওয়া, নিয়ে আসা, কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশকর্মীদের নিয়ে যাওয়া, নিয়ে আসা, টহল ইত্যাদির জন্য প্রচুর পরিমাণে বাসের প্রয়োজন হয়।
আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করতে পারে ভারতের নির্বাচন কমিশন। যে কোনও রাজ্যে লোকসভা ভোট হোক বিধানসভা ভোট হোক, প্রচুর পরিমাণে বাস অধিগ্রহণ করা হয়। ভোটকর্মীদের নিয়ে যাওয়া, নিয়ে আসা, কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশকর্মীদের নিয়ে যাওয়া, নিয়ে আসা, টহল ইত্যাদির জন্য প্রচুর পরিমাণে বাসের প্রয়োজন হয়। তার মধ্যে অধিকাংশ বাসই বেসরকারি। ভোটপর্ব চলাকালীন দীর্ঘ সময় ধরে বাস তুলে নেওয়া হয়। আর প্রতি বছরই বাস মালিকদের সঙ্গে প্রশাসনের একটা না একটা সমস্যা তৈরি হয়। সে বাসের ভাড়া হোক বা আগেই বাস তুলে নেওয়া হোক। অনেক সময় আগের ভোটের সঠিক ভাড়া না মেলারও অভিযোগ রয়েছে বাস সংগঠনগুলির। তাই এবার আগেই মাঠে নেমেছে তারা। বেসরকারি বাস সংগঠন ‘জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট’-এর তরফে পরিবহণ দফতরের কাছে নানা দাবি জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই। বাস সংগঠনের তরফে সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় ওই চিঠি দু’টি পাঠিয়েছেন পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর ও পরিবহন সচিব সৌমিত্র মোহনের কাছে।
জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের দাবি, বাস রিকুইজিশন শুরু হয়ে গিয়েছে। কলকাতা-সহ জেলায় জেলায় বাস তুলে নেওয়া হচ্ছে। ভোটের সময় বাস নিয়ে যে ভাড়া দেওয়া হয় তা বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অতীতে বাসের ভাড়া নিয়ে একাধিকবার সমস্যার মধ্য়ে পড়তে হয়েছে। তাই এবার এই বিষয়ে সুস্পষ্ট গাইডলাইন তৈরি করার দাবি জানানো হয়েছে সংগঠনের তরফে। বাসের সঠিক ভাড়া, চালক-খালাসিদের খাওয়া খরচ ইত্যাদি বিষয়ে সরকারের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
ভোটের জন্য বাসের কত ভাড়া
‘জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট’-এর সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, গত আট বছর পশ্চিমবঙ্গে বেসরকারি বাসের ভাড়া বাড়েনি। কিন্তু জ্বালানি-সহ বাস চালাতে যে সব আনুষঙ্গিক খরচ হয়, তা বহু গুণ বেড়ে গিয়েছে। আমরা আমাদের দাবিপত্রে ভোটের সময় বাস অধিগ্রহণ নিয়ে যেমন নির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরির দাবি জানিয়েছি। এবার তাই বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাড়ার দাবি জানানো হয়েছে সরকারের কাছে। সাধারণত কলকাতার ক্ষেত্রে বাস নেয় আরটিও। আর জেলার ক্ষেত্রে বাস রিকুইজিশন লেটার দেয় পুলিশ সুপারের অফিস বা জেলা শাসকের অফিস।
বাস অনুযায়ী এবার কত ভাড়ার দাবি
- মিনিবাস-ডিজেলের খরচ বাদে দৈনিক ৪ হাজার টাকা
- সাধারণ বাস-ডিজেলের খরচ বাদে দৈনিক সাড়ে ৪ হাজার টাকা
- এক্সপ্রেস বা লাক্সারি বাস-ডিজেলের খরচ বাদে দৈনিক ৫ হাজার টাকা
- ড্রাইভার ও খালাসি-৫০০ টাকা খাওয়া খরচ প্রতিদিন। পারিশ্রমিক দেন বাস মালিক।
তপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোট ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের টাকা কোনও কোনও জেলায় বাকি রয়েছে। ভাড়ার টাকা পাননি বাস মালিকরা। এছাড়াও, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাস পিছু কম টাকা ভাড়া হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। তাতে খরচ ওঠেনি। তাই এবার অগ্রিম হিসেবে ৭৫ শতাংশ ভাড়া মিটিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। বাকি ২৫ শতাংশ টাকা ভোট মেটার পরে বিল জমার ১৫ দিনের মধ্যে মিটিয়ে দিতে বলা হয়েছে।
