তাঁর পদতলে বসে থাকার ছবি শুধু নয়, অনুব্রত মণ্ডলকে 'মহাগুরু' সম্বোধন করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন খোদ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান প্রলয় নায়েক।  পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে সময় লাগেনি। বিতর্ক তুঙ্গে বীরভূমে।  বিরোধীদের কটাক্ষ,  প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যানের পদটি প্রশাসনিক। অথচ সেই পদে যিনি আসীন, তিনিই কিনা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পদতলে বসে পড়লেন!  এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট, বীরভূম জেলা শিক্ষা ব্যবস্থাকেও কুক্ষিগত করে ফেলেছে রাজ্যের শাসকদল। 

স্রেফ দলের জেলা সভাপতিই নন, বীরভূমে তৃণমূল কংগ্রেসের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল।  লোকে বলে, তাঁকে দাপটে নাকি বাঘে গরুতেও এক ঘাটে জল খায়! গত লোকসভা ভোটে রাজ্যের অভূতপূর্ব ফল করেছে বিজেপি। জঙ্গলমহল আর পাহাড়ে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। এমনকী, দক্ষিণবঙ্গের অন্য জেলায় যখন বেশ কয়েকটি আসন হাতছাড়া হয়েছে শাসকদলের, তখন বীরভূমে দুটি লোকসভা আসনেই কিন্তু জিতেছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীরা।  আর নেপথ্যে যে অনুব্রত মণ্ডল, গোপনে তা স্বীকার করেন বিরোধী দলের নেতারাও। কিন্তু বীরভূমে প্রশাসনও কি অনুব্রত মণ্ডলের অঙ্গুলিহেলনে চলে? বিতর্ক উসকে দিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান প্রলয় নায়েক।  

দিন কয়েক আগে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান প্রলয় নায়েক। ছবি দেখা যাচ্ছে, বীরভূমের জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতির পদতলে বসে রয়েছেন জেলার ওই প্রশাসনিক কর্তা। এখানেই শেষ নয়। ফেসবুকে অনুব্রত মণ্ডলকে 'মহাগুরু' সম্বোধন করে প্রলয় নায়েক লিখেছেন, 'দীর্ঘদিনের জীবনসাথীর রোগশয‍্যায় সারারাত সাথী ,আবার সকাল হতেই জেলায় ফিরে সারাদিন মানুষের জন‍্য কাজ করা- এককথায় অমানুষিক কাজ। মমতাময়ীর একান্ত ডাকে একদিন মাত্র নবান্নে। বিধায়ক ,সাংসদ হতে প্রবল অনীহা।শুধু মানুষের জন‍্য কাজ করার আন্তরিক চেষ্টা। আর সর্ব ধর্ম সর্ম্পকে গভীর প্রজ্ঞা। মানুষটার কাছে গেলে বোঝা যায় কতটা নিরাসক্ত তিনি,মায়ের পায়ের জবা হয়েই খুশি। নিজের কিছু চাওয়া নেই শুধুই মানুষের জন‍্য কাজ।'  সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল হয়ে যাওয়া সেই পোস্টকে ঘিরে এখন বিতর্ক তুঙ্গে বীরভূমে।

তৃণমূল কংগ্রেসের সাফাই, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান হওয়ার আগে দলের শিক্ষক সমিতি সম্পাদক ছিলেন প্রলয় নায়েক। অতএব অনুব্রত মণ্ডলের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত শ্রদ্ধাকে পদের সঙ্গে মিলিয়ে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। আর যাঁর পোস্টকে ঘিরে এত বিতর্ক, সেই প্রলয় নায়েকের বক্তব্য, 'আমি নিজে বোলপুরের ছেলে।  অনুব্রত মণ্ডলকে জন্ম থেকে দেখছি। সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করেছিলাম।' এদিকে এই ঘটনা নিয়ে নীবর বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল স্বয়ং।