এই পরিস্থিতিতে IMD উত্তর ও পশ্চিম ভারতে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
তীব্র তাপপ্রবাহে কার্যত জ্বলছে ভারত। মঙ্গলবার দুপুরে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ছবি সামনে আসে, যা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে আবহাওয়াবিদদের। লাইভ তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট AQI.in-এর র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ ১০০টি শহরের সবক’টিই ছিল ভারতের!

মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ প্রকাশিত তালিকায় উঠে এসেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শহরের নাম। সেখানে যেমন ছিল নয়াদিল্লি, ফরিদাবাদ, চণ্ডীগড়, আগ্রা বা গ্বালিয়র-এর মতো তাপপ্রবাহপ্রবণ শহর, তেমনই জায়গা পেয়েছে পাহাড়ের কোলের শহর হরিদ্বার এবং জম্মু-ও।
তালিকা অনুযায়ী, ওই সময় ১০০টি শহরের তাপমাত্রা ছিল ৪৪ থেকে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল বঠিন্ডা, পঠানকোট, বরেলী, ঝাঁসি এবং কইথল-এ। এই শহরগুলিতে দুপুরের তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ছুঁয়েছিল।
এছাড়াও মথুরা, ভিলাই, নানদেড় এবং অকোলা-এও তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রির উপরে পৌঁছে যায়।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মঙ্গলবার উত্তর ও পশ্চিম ভারতের একাধিক রাজ্যে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে India Meteorological Department (IMD)। আবহাওয়া দফতরের ব্যাখ্যা, আকাশে মেঘের অভাব এবং দীর্ঘ সময় ধরে শুষ্ক গরম হাওয়া প্রবাহিত হওয়ায় উত্তর ভারতের সমতল অঞ্চল ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে ভয়াবহ গরম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ-সহ উত্তর ভারতের বেশ কিছু এলাকায় আগামী ২৪ মে পর্যন্ত এই তাপপ্রবাহ চলতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষকে দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত জল পান করা এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এ ধরনের চরম আবহাওয়া ক্রমশ আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। মে মাসের মাঝামাঝি থেকেই দেশের একাধিক অংশে যে তাপমাত্রা রেকর্ড ছুঁতে শুরু করেছে, তা ভবিষ্যতের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
