Annapurna Yojana: অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য জমা দেওয়া আধার কার্ডের তথ্য জালিয়াতি করে সরকারি ভাতা তোলার অভিযোগ উঠেছে। কীভাবে ঘটল এই ঘটনা এবং আধারের তথ্য নিয়ে কী সতর্কতা জরুরি, জেনে নিন।

একেতো অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা ধরনের বিতর্ক। অনেক মহিলা টাকা পাচ্ছেন। অনেকে আবার টাকা পাচ্ছেন না। যা সমালাতে রীতিমত নাজেহাল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এই পরিস্থিতিতে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে উঠল নতুন অভিযোগ। অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে আবেদন করেছিলেন দরিদ্র মহিলারা। কিন্তু অভিযোগ, তাঁদের আধার তথ্য ব্যবহার করেই অন্যের নামে তুলে নেওয়া হয়েছে সরকারি বার্ধক্য ভাতার টাকা! শান্তিপুরের বাগআঁচড়া ও ছোটকুলিয়া এলাকায় এই অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য।

আধার কার্ড দিয়ে জালিয়াতি!

অভিযোগ, ৪০-৪১ বছর বয়সি একাধিক মহিলার আধার তথ্য ব্যবহার করে তাঁদের নামের সঙ্গে অন্য ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর ২০২১ সাল থেকে নিয়মিত তাঁদের নামে বার্ধক্য ভাতার টাকা ঢুকেছে অন্যের অ্যাকাউন্টে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধার জন্য আবেদন করার পর ব্যাংক ও অনলাইন স্ট্যাটাস খতিয়ে দেখতে গিয়ে তাঁরা এই জালিয়াতির বিষয়টি জানতে পারেন। কারও ক্ষেত্রে নবলা, আবার কারও ক্ষেত্রে শান্তিপুরের অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে টাকা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

প্রশাসনের দ্বারস্থ মহিলারা

ঘটনার প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই বিডিও-র কাছে লিখিত অভিযোগ ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা এবং আত্মসাৎ হওয়া সরকারি টাকা রাজকোষে ফেরানোর দাবি উঠেছে। যদিও পুরো বিষয়টি অভিযোগের পর্যায়ে। প্রশাসনিক তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে, কীভাবে আধার তথ্য ব্যবহার করে এই অনিয়ম ঘটল এবং এর নেপথ্যে কারা রয়েছে।

অন্নপূর্ণা নিয়ে ক্ষোভ

রাজ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়ে এমনিতেও চর্চা শুরু হয়েছে গোটা রাজ্য জুড়ে। অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে শনিবার বিক্ষোভের মুখে পড়েন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। শনিবার নিজের বিধানসভা এলাকার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানোর কর্মসূচি ছিল, কিন্তু সেখানেও পিছু ছাড়েনি অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ। একের পর এক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন মন্ত্রীকে। কেন্দ্রের পড়ুয়াদের অভিভাবকরা মন্ত্রীর সামনে একটাই প্রশ্ন তোলেন, অন্নপূর্ণা যোজনার মাসিক ৩০০০ টাকা কবে ঢুকবে। আবেদন করেও বহু মহিলা এখনও টাকা হাতে পাননি। তাঁদের অনেকের কাছেই এই টাকা সংসারের বড় ভরসা। এক অভিভাবক অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। বলেন, বড়লোকরা টাকা পাচ্ছেন আর তাঁদের মতো গরিব মানুষরা পাচ্ছেন না। এই অভিযোগ শুধু একজনের নয়, এলাকার অনেক মহিলার একই অভিযোগ করেন মন্ত্রীর কাছে।