কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি। তাঁকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছে। এই পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। পুরনো একটি মামলায় এই গ্রেফতারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হিন্দুত্ব নিয়ে একটি পুরনো কবিতা লেখাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও হিন্দু পরিষদের দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই এই কড়া নির্দেশ বলে জানা গিয়েছে।
কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি। তাঁকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছে। এই পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। পুরনো একটি মামলায় এই গ্রেফতারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হিন্দুত্ব নিয়ে একটি পুরনো কবিতা লেখাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও হিন্দু পরিষদের দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই এই কড়া নির্দেশ বলে জানা গিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে শ্রীজাতকে গ্রেফতারির এই নির্দেশে ইতিমধ্যেই চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিন্দায় সরব হয়েছেন সাহিত্যিক মহল। এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খুলতে চাননি কবি। সংবাদমাধ্যমকে শ্রীজাত বলেছেন, "এটা কোন মামলা, কী বিষয় আমি কিছুই জানি না। সংবাদমাধ্যম মারফত আমি বিষয়টা জানতে পেরেছি৷ আমি আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত পরবর্তীতে জানাব৷ আপাতত এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাইছি না।"
আগামীকাল বিধানসভার প্রথম দফা নির্বাচন। ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার হাল ধরতে নির্বাচন কমিশন যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তারই ফল হিসেবে এই পদক্ষেপ বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছিল যে, সমস্ত পুরনো অসম্পূর্ণ মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের (ECI) গাইডলাইন অনুযায়ী, যাঁদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা বা পরোয়ানা রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই সূত্র ধরেই এই গ্রেফতারি নির্দেশ। তবে, এই ধরনের পরোয়ানা জারি হওয়াকে নজিরবিহীন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। শ্রীজাতর অনুরাগী ও সাহিত্য মহলে এই নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের পক্ষ থেকে জয়প্রকাশ মজুমদার জানিয়েছেন বাংলায় কৃষ্টি সংস্কৃতির উপর আঘাত হানতে চায় বিজেপি। তাদের প্ররোচনায় পা দিয়েই নাকি কমিশন গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে শ্রীজাতকে। যদিও রাজ্য বিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার জানিয়েছন যে এই গ্রেফতারি নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের আদালত। তাহলে কীভাবে ভোটের আগে এই কাজ বিজেপি করছে বলে দাবি করতে পারে তৃণমূল।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও বিনোদ ঘোষালের মতো প্রবীণ সাহিত্যিকরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁদের স্পষ্ট প্রশ্ন, কীভাবে একজন কবি বা সাহিত্যিকের বাকস্বাধীনতার উপর এমন আঘাত হানা হতে পারে। একজন কবিকে এভাবে গ্রেফতার করে ঠিক কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে, তা বুঝতে পারছি না। এটা অত্যন্ত অন্যায়।