জঙ্গলমহলের দেবী বামুনবুড়ি, রাজ্যের বাইরেও কিছু মানুষের কাছে খুবই পরিচিত নাম ৷ তাই প্রতিবছর জানুয়ারি মাসে এই বামুনবুড়ির পুজোত সামিল হতে দৌড়ে আসেন ৷ বিভিন্ন নিজস্ব পদ্ধতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে মালসা ভোগ সাজিয়ে যান মন্দির প্রাঙ্গনে ৷ এবছরও তাই হল ৷ শনিবার থেকে আয়োজিত বার্ষিক পুজো উত্সব এবারও শামিল হলে লক্ষাধিক মানুষ ৷ এবার মালসা ভোগ চড়ল পঞ্চাশ হাজারের বেশি ৷ 

আরও পড়ুন, ট্রেনের টিকিটে ফিরল বাংলা ভাষা, বিজ্ঞপ্তি জারি করল পূর্ব রেল

পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী থানার অন্তর্গত জঙ্গলের গভীরে রয়েছে পাঁড়ুরআইমা নামক স্থানে পুরনো বেল গাছের তলাতে বামুনবুড়ির মন্দির ৷ গত বছর পর্যন্ত এই পুরনো বেলগাছের তলাতেই  নিরাকার বামুনবুড়ির পুজো করা হত  ৷ এবছর সেখানে একটি পাকার মন্দির নির্মান করা হয়েছে ৷ সেখানেই  দেবীর পুজো করা হলেও মালসাভোগ সাজানো হল মন্দির চত্বরে বাইরে ৷ 

পুরনো কথা অনুসারে গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, এই গভীর জঙ্গলমহলে একসময় এক গৃহস্থের গরুর হারিয়ে গিয়েছিল ৷ সেই গরুর খোঁজে বেরিয়ে ওই বেল গাছের তলাতে এক সাদা কাপড় পরিহিতা বুড়ির দর্শন পেয়েছিল গৃহস্থ ৷ বুড়িকে স্থানীয় কোনো বাসিন্দা মনে করেই ওই ব্যাক্তি গরুটি দেখেছিলেন কিনা জানতে চেয়েছিলেন ৷ বুড়ি বলে দিয়েছিলেন কোন পথে গেলে সেই গরু পাওয়া যাবে ৷ সেই মতো ওই পথে গিয়েই নিজের মুল্যবান গরুটিকে তিনি পেয়েছিলেন ৷ পরে তিনি ফিরে এসে আর সেই বুড়িকে আর দেখতে পাননি ৷ এরপর অনেকেই নাকি নিজেদের সমস্যা সমাধানের সময় ওই বুড়িকে দেখেছিলেন ৷ তাঁর দর্শন পেতেই নাকি সমাধান সুত্র বের হয়ে যেতো ৷ তখন থেকেই জঙ্গলমহলের মানুষের মধ্যে ধারণা জন্মায় যে, তিনি একজন 'বামুনবুড়ি দেবী'৷ জঙ্গলমহলের মানুষের কাছে রক্ষাকর্তা হিসেবে পরিচিত হয় ৷ 

আরও পড়ুন, সরকারি আধিকারিককে মার তৃণমূল নেতার, নালিশ পৌঁছল নবান্নে

তারপর থেকেই প্রতিবছর মাঘমাসের শুরুতে ওই দেবীর পুজো করা হয় ৷ বর্তমানে সেই দেবীর পুজোর ব্যাপ্তি রাজ্যের বাইরেও ৷ লক্ষাধিক মানুষ সেই পুজোতে সামিল হতে দৌড়ে আসেন ৷ বিভিন্ন ভাবে নিজেদের সমস্যার সমাধান করতে মানত করে থাকেন ৷ আর তা পুরন হলে টাকা পয়সা নয়, নিরামিষ চিড়ে ভর্তি মালসা সাজিয়ে দেন বেল গাছের তলাতে ৷  পুজো উপলক্ষ্যে রীতিমতো মেলার আয়োজন তিনদিন ধরে ৷ শনিবার থেকে মালসা সাজানো হয়েছে প্রায় পঞ্চাশ হাজারের বেশি ৷ বহু মানুষ তাঁদের মানত শোদ ও নতুন করে মানত করতে উপস্থিত হয়েছেন জঙ্গলমহলের সেই দেবীর মন্দিরে ৷