বিধানসভা নির্বাচনের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করল তৃণমূল। আজ কালীঘাটে এই ইশতেহার প্রকাশ করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত বক্সী, অমিত মিত্র ও অরূপ বিশ্বাস। ইশতেহারে ১০টি অঙ্গীকারের কথা বলেছে রাজ্যের শাসক দল।
Banglar jonno didir 10 protigya: বিধানসভা নির্বাচনের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করল তৃণমূল। আজ কালীঘাটে এই ইশতেহার প্রকাশ করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত বক্সী, অমিত মিত্র ও অরূপ বিশ্বাস। ইশতেহারে ১০টি অঙ্গীকারের কথা বলেছে রাজ্যের শাসক দল। দুয়ারে চিকিৎসা নামে নতুন একটি কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও, নতুন জেলা, পুরসভা গঠনের কথা রয়েছে।
দুয়ারে চিকিৎসা কী
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছে, সরকার দুয়ারে সরকার নামে কর্মসূচি চালিয়েছে। এবার দুয়ারে চিকিৎসা শুরু করা হবে। প্রতি বছর রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে স্বাস্থ্য শিবির করা হবে। এখানে সব ধরনের চিকিৎসার পরিষেবা পাওয়া যাবে। বিশেষ করে রাজ্যের প্রবীণ নাগরিকরা সুবিধা পাবেন নানা।
এছাড়াও, মতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, সরকারে এলে প্রত্যেকের কাচা বাড়ি পাকা করে দেওয়া হবে। প্রতি বাড়িতে জল পৌঁছে দেওয়া হবে ১-২ বছরের মধ্য়ে। বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা যাদের বাকি রয়েছে তাঁদের করে দেওয়া হবে। আজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়া যাবে। তিনি বলেন,"আমাদের অঙ্গীকার, প্রতিজ্ঞা, যা বলি, তাই করে দেখাই। আর কোনও উন্নয়ন বাকি রয়েছে বলে মনে হয় না। ১ কোটি ২০ লক্ষ কাঁচা বাড়ি দিয়েছি। টাকা বন্ধ করা সত্ত্বেও। ক্ষমতায় যখন আসি, পানীয় জল যেত ২ লক্ষ বাড়িতে। এখন এক কোটি বাড়িতে যায়। আগামী দু’-এক বছরে চাইব, সকলের বাড়িতে পৌঁছে যাক পানীয় জল। এটা অঙ্গীকার। বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা কিছু বাকি আছে। সমীক্ষা চলছে। অনেকে মারা যান, সেটা দেখতে হবে, বাকিটা সময়মতো করে দেব।"
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বৃদ্ধি করেছি। বলেছি, সারা জীবন পাবে। যদি কেউ বলে, করব, তারা ভোটের সময় বলবে করব, তার পরে করব না। আমরা করে দিয়েছি। এক কোটি যুবকদের ভাতা দেওয়া হচ্ছে। যাতা বৃত্তি পাচ্ছেন, তারাও পাবেন ভাতা। মেধাশ্রী, যুবশ্রী, মেধাশ্রী— সেগুলি পাবেন। পড়াশোনা করার বৃত্তি পাবেন। যত দিন চাকরি না পাচ্ছেন, তত দিন এই ভাতা দেব। ২ কোটি ছেলে-মেয়েদের চাকরি দিয়েছি। মোদী সরকার বলেছিল ২ কোটি চাকরি দেবে। ভারতে বেকারত্ব বেড়েছে ৪০ শতাংশ (জাতীয় গড়)। এখানে ৪০ শতাংশ বেকারত্ব কমেছে।দেশের দারিদ্র্যসীমার উপরে নীচে মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। এখানে সেই সংখ্যা কমেছে। ১ কোটি ৭৫ লক্ষ মানুষকে দারিদ্র্যসীমার উপরে নিয়ে গিয়েছে।”

কী কী প্রতিশ্রতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
- 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পের আওতায়, মাসিক ৫০০ টাকা বৃদ্ধির ফলে—সাধারণ বর্গের উপভোক্তারা মাসিক ১,৫০০ টাকা (বার্ষিক ১৮,০০০ টাকা) এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতি (SC/ST) বর্গের উপভোক্তারা মাসিক ১,৭০০ টাকা (বার্ষিক ২০,৪০০ টাকা) আর্থিক সহায়তা অব্যাহতভাবে পেতে থাকবেন।
- আমি 'বাংলার যুবসাথী' প্রকল্প চালু রাখব এবং এর মাধ্যমে বেকার যুবকদের মাসিক ১,৫০০ টাকা (বার্ষিক ১৮,০০০ টাকা) আর্থিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখব।
- কৃষক পরিবারগুলিকে নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা প্রদান, ভূমিহীন কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এবং কৃষি ক্ষেত্রের সামগ্রিক মানোন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমি ৩০,০০০ কোটি টাকার একটি 'কৃষি বাজেট' প্রবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
- আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, বাংলার প্রতিটি পরিবারের নিজস্ব একটি পাকা বাড়ি থাকবে এবং প্রতিটি বাড়িতেই নলবাহিত পানীয় জলের সুব্যবস্থা থাকবে।
- এ ছাড়াও, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আমার সরকার প্রতিটি ব্লক ও শহরে প্রতি বছর 'দুয়ারে চিকিৎসা' শিবিরের আয়োজন করবে।
- 'বাংলার শিক্ষায়তন' কর্মসূচির আওতায় আমি রাজ্যের সমস্ত সরকারি বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোর সামগ্রিক মানোন্নয়ন নিশ্চিত করব।
- বিশ্বমানের লজিস্টিক ব্যবস্থা, বন্দর, বাণিজ্যিক পরিকাঠামো এবং একটি অত্যাধুনিক 'গ্লোবাল ট্রেড সেন্টার' গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাকে পূর্ব ভারতের বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তুলতে আমি সচেষ্ট থাকব।
- বর্তমানে যাঁরা বার্ধক্যভাতা পাচ্ছেন, তাঁদের জন্য এই সহায়তা নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং পর্যায়ক্রমে সমস্ত যোগ্য প্রবীণ নাগরিককে এই সামাজিক সুরক্ষাবলয়ের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে আমি কাজ করে যাব।
- এ ছাড়াও, একটি সুসংহত ভৌগোলিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সাতটি নতুন জেলা গঠন এবং নগর স্থানীয় সংস্থাগুলির (Urban Local Bodies) সংখ্যা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিও আমি দিচ্ছি।
