ব্যারাকপুরের ৮ পুরসভাকে ভেঙে ব্যারাকপুর কর্পোরেশন করার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন দফতর । শুক্রবার ব্যারাকপুর মহকুমার শাসক এই মর্মে প্রত্যেকটি পুরসভায় নোটিশ জারি করেছেন । এর মধ্যে রয়েছে টিটাগড়, ব্যারাকপুর, উত্তর ব্যারাকপুর, গারুলিয়া,ভাটপাড়া, নৈহাটি, হালিশহর, কাঁচড়াপাড়া  পুরসভা। এদিকে, সর্বদলীয় বৈঠক না ডেকে আচমকা রাজ্য সরকারের এই একক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক মহলে ।

 বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দাবি, শাসক তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টা করছে। কিন্তু ৮ টি পুরসভা নিয়ে ব্যারাকপুর কর্পোরেশন তৈরি হলে ভৌগলিক অবস্থানের কারণে মানুষকে নতুন করে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে । সাধারণ মানুষ নানা রকম প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতার শিকার হবেন। বৃদ্ধ ও অসুস্থ্য মানুষেরা নিত্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দরকারে অযথা বা অকারণে হায়রান হবেন । 

এই খবর জানাজানি হতেই ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও । স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কাঁচড়াপাড়া থেকে টিটাগড় পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের বাস। পুরসভার প্রশাসনিক ভবনে পুরপ্রধান বা কাউন্সিললের কাছে জন্ম থেকে মৃত্যু, বাড়ির জল থেকে ড্রেন সব বিষয়েই তাঁরা ছুটে যান। সেক্ষেত্রে অন্য কোথাও কিছু হলে যথেষ্ট সমস্যায় পড়তে হবে আম আদমিকে । 

অন্য দিকে, শাসক দল তৃণমুল কংগ্রেসের নেতাকর্মীদের দাবি,দল ও সরকারের সিদ্ধান্ত যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে জনসংখ্যা ও ওয়ার্ডের ভিত্তিতে ব্যারাকপুর কর্পোরেশন হবে। এটি রাজ্য তথা দেশের মধ্যে সব থেকে বড় পুরসভা ও কর্পোরেশন । এটা ব্যারাকপুর মহকুমা এলাকার মানুষের গর্ববোধ করার বিষয় । ইতিমধ্যেই কর্পোরেশন হলে পুরসভার পুর কর বৃদ্ধি সহ একাধিক আইনি সমস্যার আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা । পাশাপাশি অনেক পৌরসভা আছে শতাব্দী প্রাচীন । মানুষের অভিযোগ, কর্পোরেশন হলে শতাব্দী প্রাচীন পুরসভাগুলি ঐতিহাসিক গুরুত্ব হারাবে । সেক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ভাবাবেগে আঘাত হানা হবে ।