পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং-এ আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনের আয়োজন নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিবাদ ক্রমশই বাড়ছে। সম্মেলনের আয়োজন নিয়ে প্রকাশ্যেই হতাশা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।

পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং-এ আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনের আয়োজন নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিবাদ ক্রমশই বাড়ছে। সম্মেলনের আয়োজন নিয়ে প্রকাশ্যেই হতাশা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। যা নিয়ে ভোটের আগে নতুন করে উত্তপ্ত হচ্ছে রাজ্য রাজনীতি।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দাবি

রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রকাশ্যেই সম্মেলনের স্থান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন স্থান নিয়েও। তিনি বলেন, সাঁওতাল সম্প্রদায়ের অনেক সদস্য তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি উদযাপনের জন্য আয়োজিত একটি সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন নি। আর তার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, এখনও অনেক মানুষ রয়েছেন যারা সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ভালো চায় না। রাষ্ট্রপতির এই প্রতিক্রিয়ায় রীতিমত উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আক্রমণ

জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আজ দেশ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করছে, এবং গতকাল পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে চরমভাবে অপমান করেছে। দ্রৌপদী মুর্মু সাঁওতাল সম্প্রদায়ের একটি প্রধান অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলায় গিয়েছিলেন, কিন্তু রাষ্ট্রপতিকে সম্মান জানানোর পরিবর্তে, তৃণমূল কংগ্রেস এই পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান বয়কট করেছে।"

প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, "দ্রৌপদী মুর্মু নিজে আদিবাসী সম্প্রদায় থেকে এসেছেন এবং সর্বদা তাদের উন্নয়নের জন্য উদ্বিগ্ন। তৃণমূল কংগ্রেস সরকার অব্যবস্থাপনার জন্য সেই কর্মসূচি পরিত্যাগ করেছে। এটি কেবল রাষ্ট্রপতির অপমান নয়, ভারতের সংবিধানেরও অপমান। এটি সংবিধানের চেতনার অপমান। এটি গণতন্ত্রের মহান ঐতিহ্যেরও অপমান। এই আচরণ সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী।"

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "আমাদের দেশে বলা হয় যে একজন ব্যক্তি যতই শক্তিশালী হোক না কেন, অহংকার শেষ পর্যন্ত তাদের ধ্বংস করে দেয়। আজ, দেশের রাজধানী থেকে, আমি আপনাদের সকলের কাছে আবেদন করছি যে তৃণমূল কংগ্রেসের নোংরা রাজনীতি এবং ক্ষমতার অহংকার, যা একজন উপজাতি রাষ্ট্রপতির মর্যাদাকে অপমান করেছে, তা শীঘ্রই পতন হবে। পশ্চিমবঙ্গের সজাগ মানুষ একজন নারী, একজন উপজাতি, দেশের রাষ্ট্রপতিকে অপমান করার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে কখনও ক্ষমা করবে না। দেশও তাদের কখনও ক্ষমা করবে না। দেশের উপজাতি সম্প্রদায় তাদের কখনও ক্ষমা করবে না। দেশের মহিলারা তাদের কখনও ক্ষমা করবে না।"

স্থান পরিবর্তনে বিতর্কের সূত্রপাত

সাঁওতাল সম্মেলনের জন্য দার্জিলিং জেলার বিধাননগরে স্থান নির্ণয় করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে শিলিগুড়ির বাগডোগড়া এলাকার দোসাইনপুরে তা স্থানান্তরিত করা হয়। এই এলাকায় যাতায়াতের সেমন সুবিধে নেই বলেই দাবি রাষ্ট্রপতির।

যা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, 'আমি বুঝতে পারছি যে এখানে যে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হল তা আরও ভালো করে আয়োজন করা যেত। পাঁচ লক্ষ মানুষ সহজেই জড়়ো হতে পারত। ' একই সঙ্গে তাঁর সফরের সময় রাজ্যের কোনও মন্ত্রী তাঁর সঙ্গে দেখা না করায় রীতিমত হতাশা প্রকাশ করেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের প্রতিক্রিয়া

মমতা জানিয়েছেন, ৫ মার্চ জেলা প্রশাসন ও রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের মধ্যে সমন্বয় হয়েছিল। জেলা প্রশাসন আগাম সতর্ক করেছিল যে, আয়োজকরা (ইন্টারন্যাশনাল সান্তাল কাউন্সিল) বেসরকারি সংস্থা হওয়ায় প্রস্তুতিতে খামতি রয়েছে। তা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে শিলিগুড়ির মেয়র, জেলাশাসক ও পুলিশ কমিশনার তাঁকে অভ্যর্থনা ও বিদায় জানিয়েছেন। মঞ্চে বা ডাইস প্ল্যানে মুখ্যমন্ত্রীর থাকার কথাই ছিল না। মমতার প্রশ্ন, “বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে যখন আদিবাসীদের ওপর অত্যাচার হয়, তখন কেন আপনি চুপ থাকেন? মণিপুর নিয়ে কেন নীরব?” ভোটার তালিকায় ‘কারচুপি’র বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই সময়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে এই ধরনের রাজনীতি করানো হচ্ছে।

মহুয়ার প্রতিক্রিয়া

শনিবার এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা একটি ভিডিওতে মহুয়া বলেন, ওই বেসরকারি অনুষ্ঠানের জন্য রাজ্য সরকার দায়ী ছিল না। সব ব্যবস্থা সম্পর্কে জানানোর পরেও রাষ্ট্রপতি ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন। মহুয়া তাঁর পোস্টে লেখেন, "শ্রদ্ধেয়া @rashtrapatibhvn, সৌজন্যের বদলে সৌজন্যই দেখানো হয়। আমরা আপনার চেয়ারকে সম্মান করি, কিন্তু এক মিনিটের জন্যও ভাববেন না যে আপনি আপনার পদের অপব্যবহার করে আমাদের রাজ্য এবং আমাদের মানুষদের সম্পর্কে অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করতে পারেন। নিদের সোশ্যাল মিডিয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে যুক্ত করে ভিডিওতে মহুয়া বলেন, রাষ্ট্রপতি মুর্মু রাজ্য সরকারের আয়োজিত কোনও অনুষ্ঠানে বাংলায় আসেননি, বরং একটি বেসরকারি সংস্থার আয়োজিত ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। মহুয়া বলেন, "ম্যাডাম রাষ্ট্রপতি, আপনি আজ বাংলায় এসে নির্বাচনের সময় বিজেপির শেখানো বুলি আওড়ালেন। আপনি আজ বাংলায় রাজ্য সরকারের আয়োজিত কোনও অনুষ্ঠানে আসেননি। আপনি একটি বেসরকারি সংস্থার ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। এই প্রকল্পের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার দায়ী ছিল না।"