সপ্তাহখানেক আগে ঘূর্ণিঝড় আমফানের দাপটে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জায়গায় অসংখ্য গাছ সমূলে উপরে গিয়েছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে তাই এদিন পশ্চিমবঙ্গের অনেক জায়গাতেই বৃক্ষরোপন করা হল। কিন্তু, পরিবেশ মানে তো শুধু গাছপালা নয়, যদি সেই গাছে পাখিই না থাকে, তাহলে কি ভারসাম্য থাকে? এই পাখিদের কথা ভেবে এগিয়ে এল বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের একদল যুবক।

বর্তমানে তীব্র গরম পড়েছে বাঁকুড়ায়। সেই গরমে মানুষের মতো দারুণ সমস্যায় পড়েছে পাখিরাও। তাপপ্রবাহের মধ্যই খাদ্য সংগ্রহে বেরিয়ে অনেক জায়গাতেই হিট স্ট্রোকে পাখিদের মৃত্যুর খবর এসেছে। গরমে খাল-বিল-কূয়োরর জলও গিয়েছে শুকিয়ে। তাই রয়েছে জলকষ্টও। আর এইসব কথা ভেবেই বিশ্ব পরিবেশ দিবসের দিন পাখিদের সহায়তায় মন্দির-নগরী বিষ্ণুপুরে নেওয়া হল অভিনব উদ্যোগ।

বিষ্ণুপুরের অন্যতম ঐতিহ্য এই শহরের লন্ঠন শিল্প। সেই লন্ঠনের আদলেই তাঁরা পাখিদের জন্য ছোট্ট ছোট্ট কুটির তৈরি করেছেন। কুটিরের ভিতরে একদিকে যেমন পাখিরা প্রখর রোদের সময় একটু ছায়াও পাবে, তেমনই কুটিরের ভিতর পাখিদের গলা ভেজানোর জন্য একটি পাত্রে রাখা থাকছে জল। এখানেই শেষ নয়, ওই কুটিরেই পাখিরা পাবে হরেক রকমের শস্যদানা-ও, কাজেই খাবার সংগ্রহে গরমের মধ্যে বাইরে বের হতে হবে না।

বিষ্ণুপুরের শহরের মন্দির সংলগ্ন এলাকার গাছে গাছে এবং ঐতিহ্যবাহী লাল বাঁধের তীরবর্তী গাছগুলিতে নানান পাখির বাস। বছরের নানান সময়ে হাজির হয় পরিযায়ী পাখির দল-ও। এদিন ওই দুই জায়গারই গাছে গাছে লাগানো হল এরকমই ফাইভস্টার পাখির বাসা। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিষ্ণুপুরের এই উদ্যোগী যুবকদের এই অভিনব ভাবনায় এলাকার প্রকৃতি প্রেমিকরা তো খুশি বটেই, সকলেই এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।