সোমবার ভোট, তার আগের দিনই তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংহ। পুরনো দলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটা ভোটে তিনি আলাদা আলাদা অপারেশন করেন। অর্জুনের হুঁশিয়ারিকে অবশ্য গুরুত্ব দেননি তৃণমূল প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী।

সোমবার পঞ্চম দফায় রাজ্যের সাতটি আসনে ভোটগ্রহণ। সেগুলি হল, বনগাঁ, ব্যারাকপুর, হাওড়া, উলুবেড়িয়া, শ্রীরামপুর, হুগলি, ও আরামবাগে। এই কেন্দ্রগুলির মধ্যে নিঃসন্দেহে সবথেকে আকর্ষণীয় লড়াই হতে চলেছে ব্যারাকপুরে। তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় জায়গা না পেয়ে বিজেপি-তে গিয়ে প্রার্থী হয়েছেন অর্জুন। তৃণমূলে থাকার সময়ে এই কেন্দ্রে তিনিই ছিলেন এই কেন্দ্রে শাসক দলের ভোট ম্যানেজার। সেখানে তিনি এবার বিরোধী শিবিরে নাম লেখানোয় ব্যারাকপুরে তৃণমূলকে কড়া টক্কর দিচ্ছে বিজেপি। অর্জুনের ব্যক্তিগত ক্যারিশমায় ভরসা করেই ব্যারাকপুর আসনটি তৃণমূলের থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে গেরুয়া শিবির। ভোটের আগের দিনই অবশ্য ব্যারাকপুরে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। ব্যারাকপুর কেন্দ্রের অন্তর্গত হালিশহরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সেখানে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বচসাতেও জড়ান অর্জুন সিংহ। অন্যদিকে ব্যারাকপুর পুরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলরকে বিজেপি আস্রিত দুষ্কৃতীরা মারধর করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ দিন ব্যারাকপুর কেন্দ্রের পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে সব দলের প্রার্থী এবং প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেই বৈঠক থেকে বেরিয়েই হুঙ্কার ছাড়েন অর্জুন. তৃণমূলকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ভোটেই আলাদা অপারেশন বা কৌশল থাকে তাঁর। ফলে, শাসক দল চেষ্টা করলেও তার পরিকল্পনার সঙ্গে এঁটে উঠতে পারবে না। শুধু তাই নয়, হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, তৃণমূল গণ্ডগোল করলে পাল্টা প্রতিরোধ হবে। অর্জুনের হুঁশিয়ারিকে অবশ্য আমল দেননি তৃণমূল প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, যা করার প্রশাসন করবে।

এ দিন পুলিশ পর্যবেক্ষকের সঙ্গে বৈঠকে অর্জুন দাবি করেন, ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের সমস্ত থানার আইসি-দের ভোটের দিন বসিয়ে দেওয়া হোক। অর্জুনের অভিযোগ, সব গণ্ডগোলের মূলে রয়েছেন থানার আইসি-রাই। তাঁরাই শাসক দলের হয়ে কাজ করছেন বলে অভিযোগ অর্জুনের। একই সঙ্গে সব দলের পোলিং এজেন্টকেই যাতে বুথের বাইরে বসানো হয়, সেই দাবিও তোলেন বিজেপি প্রার্থী, তাঁর দাবি, গোটা দেশেই বুথের ভিতরে কোনও পোলিং এজেন্ট বসেন না। সেই নিয়ম এখানেও চালু করা হোক।

ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যেই পড়ে মুকুল রায়ের খাসতালুক কাঁচরাপাড়া, হালিশহর, বীজপুরের মতো এলাকা. যা বিজেপি-র অন্যতম অ্যাডভান্টেজ। নিজের এলাকা থেকে দলীয় প্রার্থীকে লিড দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা অবশ্যই করবেন মুকুল। অর্জুনের দলবদলের আগে পর্যন্ত অবশ্য তাঁর সঙ্গে মুকুলের সাপে-নেউলে সম্পর্ক ছিল। আবার বীজপুরের বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ের কাছেও এই নির্বাচন দলের কাছে নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদ। বাবা বিজেপি-তে গেলেও তৃণমূল ছাড়েননি শুভ্রাংশ। বার বার দাবি করেছেন, তিনি তৃণমূলে আছেন এবং থাকবেন. মুকুলের বিজেপি-তে যোগদানের পরে দলের মধ্যেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন শুভ্রাংশু। প্রচার পর্বে তিনিও চ্যালেঞ্জের সুরে বলেছেন, ব্যারাকপুর লোকসভার মধ্যে তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই সবথেকে বেশি লিড পাবেন তৃণমূল প্রার্থী। সব মিলিয়ে ব্যারাকপুরে জমজমাট লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত। দীনেশ ত্রিবেদী থেকে অর্জুন সিংহ, মুকুল রায় থেকে শুভ্রাংশু, প্রত্যেকেরই নিজেকে প্রমাণের তাগিদ রয়েছে এই কেন্দ্রে।