বুদ্ধদেব পাত্র, পুরুলিয়া-২০১৮-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে পুরুলিয়ার সুখা মাটিতে দূরবীন দিয়েও খোঁজ মিলত না বিজেপির। তারপর যখন মনোনয়ন দাখিল করা শুরু হল, পাল্টে গিয়েছিল পুরুলিয়ার রাজনৈতিক চাল চিত্র। প্রায় প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকেই প্রার্থী দিয়েছিল বিজেপি। সে সময় পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের পর্যবেক্ষক ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়। ঘাসফুলের সঙ্গে সমানে সমানে টক্কর দিয়ে সুখা মাটিতে ফোটে পদ্মফুল। তৃণমূলের দখলে থাকা ২৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ১টি পঞ্চায়েত সমিতি এবং ৯টি জেলা পরিষদ এককভাবে দখল করে বিজেপি। কার্যত দিশেহারা অবস্থা হয় তৃণমূলের।

২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচন থেকে ২০১৮-র পঞ্চায়েত নির্বাচন। পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তখন প্রতি মাসেই পুরুলিয়া যাওয়া আসা করতেন অভিষেক। জেলার প্রতিটি নির্বাচনী জনসভাতে নিজস্ব ভঙ্গিমায় হুঙ্কারও দিয়েছেন। কিন্তু ভোট ব্যাঙ্কে তার কোনও প্রভাব পড়েনি।

পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলার রঘুনাথপুর থেকে পাড়া, সাতুড়ি থেকে হুড়া। আবার বান্দোয়ান থেকে বরাবাজার, বলরামপুর থেকে বাগমুণ্ডি ঝালদা। প্রতিটি ব্লকেইর সুখা মাটিতে ফুটেছিল পদ্মফুল। ওই জেলায় তৃণমূল মন্ত্রিসভার একমাত্র মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতোর বিধানসভা কেন্দ্র এবং জেলা পরিষদের সভাধিপতি সৃষ্টিধর মাহাতোর নির্বাচনী ক্ষেত্র বলরামপুরে বিজেপির ধাক্কায় কুপোকাত হয় তৃণমূল। বলরামপুর ব্লক সহ সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েতেই হারতে হয় তৃণমূলকে। এরপর পুরুলিয়ার রাজনীতিতে অভাবনীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তৃণমূলের অধীনে থাকা বিভিন্ন পঞ্চায়েত দখল করতে শুরু করে বিজেপি। দিকে দিকে শুরু হয় ঘাসফুল ছেড়ে পদ্মফুলে যোগদানের পালা। তারপর থেকেই নিজেদের অস্তিত্ব হারাতে শুরু করে সিপিএম ও কংগ্রেস।

২০১৮-র পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় আরও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। বলরামপুরে তিন বিজেপি কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়। ত্রিলোচন মাহাতো, দুলাল কুমারের মৃত্যুতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ করে বিজেপি। এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে পুরুলিয়ায় নিজে গিয়েছিলেন তৎকালীন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। সেই ঘটনার তদন্ত করছে সিআইডি। 

তারপর থেকেই ক্রমশ উথ্থান হতে থাকে বিজেপির। পুরুলিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে দলে দলে তৃণমূল থেকে বিজেপির যোগদান শুরু হয়। এখনও চলছে। বিজেপির দাবি, আগের তুলনায় এখন তাঁদের মাটি অনেকটাই শক্ত। পুরুলিয়ায় রঙ ফিকে হচ্ছে ঘাসফুলের।