দিলীপ, সায়ন্তনের পর এবার বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য় জয়প্রকাশ মজুমদারের মুখে। বসিরহাটে বিজেপির অভিনন্দন যাত্রায় এই বিজেপি নেতা বলেন, 'বুদ্ধিজীবীরা উচ্ছিষ্টভোগী। কিছু ভাত ছড়িয়ে দিলে কুড়িয়ে খায় ওরা'। 

সম্প্রতি  ছাত্রদের ওপর হামলা, নাগরিকত্ব প্রসঙ্গ নিয়ে সরব হন টলিউডের বিশেষ ব্যক্তিত্বরা । দেশপ্রিয় পার্ক থেকে মেনকা সিনেমা হল পর্যন্ত মিছিল করে দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি  নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দেন তাঁরা। সেই মিছিলে হাঁটেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য, দেবজ্যোতি মিশ্র, অনীক দত্ত, চন্দন সেন, সৌরভ দাস, সায়নী ঘোষের মতো ব্যস্তিত্বরা। পরে যাদেরকে নিয়ে ব্য়ঙ্গ করতে ছাড়েননি বিজেপির রাজ্য় সভাপতি। শনিবারই পাশকুঁড়ার অভিনন্দনযাত্রায় গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, রাজ্যে এত বুদ্ধিজীবী হয়ে গিয়েছে-যে ন্যায়নীতির জ্ঞান দিয়ে দিয়ে কান ঝালাপালা করে দিচ্ছে। আজকাল তো রাস্তায় নামিয়ে নামিয়ে বুদ্ধিজীবী তৈরি করা হচ্ছে। 

এবার তাঁরই দেখানো পথে হাঁটলেন বঙ্গ বিজেপির অন্য়তম মুখ জয়প্রকাশ মজুমদার। বসিরহাটে এই বিজেপি  নেতা বলেন, 'বুদ্ধিজীবীরা উচ্ছিষ্টভোগী। কিছু ভাত ছড়িয়ে দিলে কুড়িয়ে খায় ওরা'। সমাজকে কলুষিত করছে ওদের কথা না বলাই ভালো । শনিবারই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদী মিছিলে পা মেলাতে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে উপস্থিত ছিলেন এই অভিনেতা কলাকুশলীরা। পদযাত্রায় একেবারে প্রথমে ছিলেন অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য। সঙ্গে ছিলেন সৌরভ পালোধি ছাড়াও টেলিভিশনের বহু ব্ক্তিত্ব। শনিবার বিশিষ্টদের এই মিছিল শুরু হয়েছিল দক্ষিণ কলকাতার দেশপ্রিয় পার্ক থেকে। এরপর টালিগঞ্জ ফাঁড়ি হয়ে পায়ে পায়ে এই প্রতিবাদী মিছিল পৌঁছল মেনকা সিনেমাহলের সামনে।

মিছিল থেকে সুরকার দেবজ্য়োতি মিশ্র বলেন, দেশে অগণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যা চলছে তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। কোনওভাবেই এনআরসি, সিএএ, এনপিআর নয় করতে দেওয়া যাবে না।  একই কথা বলেন অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, সিএএ আইন দেশের নাগরিকের জন্য় ভালো নয়। জনতাই সরকার নির্বাচন করে। তাহলে একটা সরকার জনগণের ভালো হবে না এরকম আইন কী করে প্রণয়ন করে। এদিন  মিছিলে দেখা যায় অনীক দত্তকে। এদিন মিছিলে তাঁর গলাতেও ছিল প্রতিবাদী সুর। পরিচালক বলেন, জেএনইউ ছাত্রদের মেধা আছে, বুদ্ধি আছে তা বুঝতে পেরেই এসব ঘটনা ঘটিয়েছে ওরা।