আজ প্রধান নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শ্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সেখানেই তিনি অভিযোগ বেআইনিভাবে ভোটার তালিকায় নাম তোলা হচ্ছে অনুপ্রবেশকারীদের। 

আজ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে গিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। কী কারণে তাঁর এই সফর তা তিনি বাইরে বেরিয়ে এসে জানিয়েছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল প্রধান নির্বাচনী আধিকারিক ও সিনিয়র আইএএস আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের কাছে বিভিন্ন দাবি ও প্রশ্ন তুলে ধরা। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) সংক্রান্ত একাধিক নির্দেশিকা দিয়েছে এবং আজও সেই বিষয়ে সংশোধন চলছে। তিনি আরও জানান যে, নদিয়া জেলা থেকে একটি অডিও ক্লিপ প্রধান নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে যে নথি জমা দেওয়ার শেষ দিনে নদিয়া জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রভাব খাটিয়েছেন। ভারতীয় জনতা পার্টি ইতিমধ্যেই সেই অডিওটি প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমে প্রচার করেছে।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যদি নির্বাচন কমিশন এই অডিও ক্লিপকে প্রমাণযোগ্য বলে মনে করে, তবে তা কেন্দ্রীয় ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো উচিত এবং সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত জেলাশাসক ও জেলাশাসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি আরও দাবি করেন যে, পূর্ব বর্ধমানের জেলা নির্বাচন আধিকারিক হিসেবে কর্মরত আয়েশা রানি এবং উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসককে আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার আগে বা সঙ্গে সঙ্গেই বদলি করা উচিত।

শুভেন্দু অধিকারী উল্লেখ করেন যে ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ২২৫ জন নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারিক নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা লঙ্ঘন করেছেন। নির্দেশিকা অনুযায়ী নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারিকদের পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিসের এ গ্রেড অফিসার বা আইএএস পর্যায়ের মহকুমা শাসক হওয়ার কথা, কিন্তু তা মানা হয়নি। তিনি বলেন, মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে এই আধিকারিকদের বদলি করা উচিত।

শুভেন্দু অধিকারী আরও প্রশ্ন তোলেন যে, গতকাল কলকাতা হাইকোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতির ডাকা একটি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মী ও প্রাক্তন মুখ্যসচিব মনোজ পান্ত কীভাবে উপস্থিত ছিলেন এবং কোন ক্ষমতায় ছিলেন। বিজেপির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন যে কেন মনোজ পান্তকে গ্রেফতার করা হবে না। এই বিষয়টি প্রধান নির্বাচনী আধিকারিককে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে জানাতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, 'সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে কোনও অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকতে পারেন না এবং মনোজ পান্তের এই বিষয়ে কোনও আইনগত অধিকার নেই। এই বিষয়ে প্রধান নির্বাচনী আধিকারিকের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কী ব্যবস্থা নেন, তার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।'